মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
সিলেটের সর্বকনিষ্ঠ প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আজিম শাবিতে শিক্ষার্থীদের উপর নগ্ন হামলার প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল সেই দুই রির্টানিং কর্মকর্তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ উত্তাল শাবিপ্রবিতে চলছে ভর্তি কার্যক্রম ‘যেই ভিসি ‘কসাই’, সেই ভিসির পতন চাই! শাবির হলে হলে শিক্ষার্থীদের তালা, হলগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল শাবি ইভিএমে ভোট কারচুপির সুযোগ নেই: মন্ত্রী তাজুল ইসলাম শাবিতে শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন তীব্র ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭০০ ফ্লাইট বাতিল কমলগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড, ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবার ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল শাবি তাহিরপুরে কোয়ারিতে মাটি চাপায় প্রাণ গেল শ্রমিকের শাবিপ্রবির সিরাজুন্নেসা হলের নতুন প্রভোস্ট ড. নাজিয়া কানাইঘাটে সাংবাদিকের হাত-পা ‘কাটলো’ প্রতিপক্ষ

সিলেটে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থীসহ ৪৪ জন

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট : বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
সিলেটে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থীসহ ৪৪ জন - Natun Sylhet

তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন

তৃতীয় ধাপে সিলেটের তিন উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৪ জনের জামানত রক্ষা হয়নি।

 

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগ ভোট পেতে হয়। সে হিসেবে অর্ধেক প্রার্থীই জামানত ফিরে পাচ্ছেন না, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

 

তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এসব ইউনিয়নে জামানত হারানোর তালিকায় নৌকা ও জাপার একজন করে প্রার্থী ছাড়াও রয়েছেন জমিয়ত ও ইসলামী আন্দোলনের ৩ করে এবং স্বতন্ত্র ৩৬ জন।

 

দক্ষিণ সুরমার ৬ ইউপিতে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অর্ধেক প্রার্থী তথা ১২ জন জামানত হারিয়েছেন। এরমধ্যে ১১ জন স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলনের এক প্রার্থী রয়েছেন।

 

জৈন্তাপুরে ৫টি ইউপিতে ৩২ প্রার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি তথা ১৮ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এরমধ্যে জাপা, জমিয়ত, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছাড়া স্বতন্ত্র ১৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

 

গোয়াইনঘাটে ৬ ইউনিয়নে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় নৌকা এক প্রার্থী ছাড়াও জমিয়তের ২জন, ইসলামী আন্দোলনের একজন এবং স্বতন্ত্র ১০ জনের জামানত রক্ষা হয়নি।

 

 

নির্বাচন অনুষ্ঠিত জেলার গোয়ানইঘাট উপজেলার ৬ ইউপির একটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীসহ মোট ১৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তন্মধ্যে ডৌবাড়ি ইউপিতে ১ জন, ফতেহপুরে নৌকার প্রার্থীসহ ৪ জন, নন্দিরগাওয়ে ২ জন, তোয়াকুলে ১ জন, রুস্তমপুরে ৫ জন, লেংগুড়ায় ১ জন। জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচ ইউপির জামানত বাজেয়াপ্ত ১৮ জনের মধ্যে ৪ জন জৈন্তাপুর সদর ইউপিতে, চারিকাটায় ৫ জন, দরবস্তে ৩, ফতেহপুরে ১ ও চিকনাগুল ৫ জন।দক্ষিণ সুরমার পাঁচটি ইউপিতে জামানত হারানো ১২ জনের ৩ জন করে সিলামে ও লালাবাজারে ২ জন মোগলাবাজারে, জালালপুর ৩ ও দাউদপুরে একজন রয়েছেন।

 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সিলেটের গোয়াইনঘাটের ডৌবাড়িতে প্রদত্ত ভোট ১২হাজার ৪৩।এ ইউপিতে ৪ প্রার্থীর মধ্যে কেবল জমিয়তের এনামুল ইসলাম (খেঁজুর গাছ) ৫৮৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষায় তাঁর প্রয়োজন ছিল ১,৫০৫ ভোট।

 

ফতেহপুরে ৭ প্রার্থীর ৪ জনই জামানত হারিয়েছেন। ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১১ হাজার ৭৬৬ ভোটের হিসেবে জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ১,৪৭০ ভোট। এখানে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (নৌকা) ১০৭০ ভোট, স্বতন্ত্র ইসলাম উদ্দিন (অটোরিক্সা) ২৫৫, মীর হোসাইন আমীর (আনারস) ৫৭৫, জমিয়তের  মৌলানা নিজাম উদ্দিন (খেঁজুর গাছ) ৫৩৪ ভোট পেয়েছেন।

 

নন্দিরগাওয়ে ছয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২ জন জামানত হারিয়েছেন। ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১২,৮৭২টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ১৬০৯ ভোট। এরমধ্যে স্বতন্ত্র মো. আব্দুল ওয়াহিদ (আনারস) ১,৫২৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হীরক দেব (চশমা) মাত্র ৩৯ ভোট পেয়েছেন।

 

তোয়াকুল ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৩,২৪৮টি। চার প্রার্থীর মধ্যে কেবল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলীম উদ্দিন (হাত পাখা) ১৪৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষায় তার প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৬৫৬ ভোট।

 

রুস্তমপুর ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২১ হাজার ৯৬৮। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ২,৭৪৬ ভোট। চেয়ারম্যান পদে ৮ প্রার্থীর ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আব্দুল মজিদ সরকার (টেবিল ফ্যান) ৩১৮ ভোট, আব্দুল মতিন (মোটরসাইকেল) ১০৪৪, আলী আমজদ (ঘোড়া) ১০৭৬, হাবিবুর রহমান (টেলিফোন) ২৮৬ এবং সালেহ আহমদ (আনারস) ১২৫ ভোট পেয়েছেন।

 

লেংগুড়ায় প্রদত্ত ভোট ৮ হাজার ৭৮০টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের ১০৯৭ ভোট পাওয়ার কথা। সে হিসেবে ৫ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান (মোটরসাইকেল) ১৬৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

 

জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৪ হাজার ৭১৫টি। জামানত রক্ষায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৮ ভাগের একভাগ ১,৮৩৯ ভোট প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ৭ প্রার্থীর ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আব্দুল আহাদ (টেবিল ফ্যান) ১৫২৭ ভোট, নুরুল ইসলাম (চশমা) ১৫৯ ভোট, আব্দুল হাই (টেলিফোন) ১৩৮ ভোট, হোসেইন আহমদ (মোটরসাইকেল) ৩৪৫ ভোট।

 

চারিকাটা ইউপিতে প্রদত্ত ভোট ১১ হাজার ৩১২টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ১৪১৪ ভোট। সে হিসেবে এ ইউনিয়নে ৮ প্রার্থীর ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আলতাফ হোসেন বিলাল (ঘোড়া) ২৭৯ ভোট, দেলোয়ার হোসেন আজাদ (টেলিফোন) ২৭৯ ভোট, বদরুল ইসলাম (আনারস) ৮৩ ভোট, আফজাল হোসেন (আনারস) ৮৮ ভোট।

 

দরবস্ত ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ২০ হাজার ৮১২টি। এরমধ্যে জামানত রক্ষায় ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট প্রয়োজন ছিল ২৬০১টি। এরমধ্যে ৫ প্রার্থীর ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন-স্বতন্ত্র খয়রুল আমিন (ঘোড়া) ২২২ ভোট, জসিম উদ্দিন শিকদার (হাতপাখা) ২৬৯ ভোট, মো. মাসহুদ আজহার (খেঁজুর গাছ) ২৪৬১ ভোট।

 

ফতেহপুর ইউনিয়নে ৩ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র তাফাজ্জুল হোসেইন (আনারস) ১২৯ ভোট পেয়েছেন। ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১৩ হাজার ২৬৭টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ১,৬৫৮ ভোট।

 

চিকনাগুল ইউপিতে প্রদত্ত ভোট ১২ হাজার ৪৭৫। জামানত রক্ষায় ১,৫৫৯ ভোট প্রয়োজন ছিল প্রার্থীদের। সে হিসেবে এখানে ৯ প্রার্থীর ৫ জনই জামানত খুইয়েছেন। তারা হলেন-স্বতন্ত্র আতিকুর রশীদ (দুটি পাতা) ১০৯৫ ভোট, আব্দুল আহাদ (ঘোড়া) ১০১৮, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ১৬৯ ভোট, অটোরিকশার প্রার্থী ৪৪৩ ভোট, আনারস প্রতীকের প্রার্থী ৪৪৮ ভোট।

 

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউপিতে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮০। জামানত রক্ষায় ১,৯৯৭ ভোট প্রয়োজন ছিল প্রার্থীদের। সে হিসেবে ৬ প্রার্থীর ৩ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- মো. ফয়জুল হক (মোটরসাইকেল) ৮৪৮ ভোট, মো. মাহবুব আহমদ (আনারস) ২৮৩ ভোট, সুমন মিয়া (অটোরিকশা) ৩৬০ ভোট।

 

লালাবাজার ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৩ হাজার ২৫০টি। জামানত রক্ষায় ১,৬৫৬ ভোট প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ৬ প্রার্থীর ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আব্দুল মুহিত (আনারস) ১২৯২ ভোট, খালেদ আহমদ রাসেল (চশমা) ৪৮, মামুনুর রহমান চৌধুরী (রজনীগন্ধা) ৪২ ভোট।

 

মোগলাবাজার ইউনিয়নে প্রদত্ত ১৬ হাজার ৬৬২ ভোটের মধ্যে জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের ২০৮২ ভোট প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ৬ প্রার্থীর দুইজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন-স্বতন্ত্র মো.মুকিত মিয়া (আনারস) ১,৫৩১ এবং শামিনুল হক (অটোরিকশা) ১৪৩৩ ভোট।

 

জালালপুর ইউনিয়নে ভোট পড়েছে ১৮ হাজার ৪৪০টি। জামানত রক্ষায় ২,৩০৫ ভোটের নীচে ৩ প্রার্থীর মধ্যে কেবল হারুনুর রশিদ (হাতপাখা) ২১৩ ভোট পেয়েছেন।

 

দাউদপুরে প্রদত্ত ভোট ১৩ হাজার ৪১৬ ভোটের মধ্যে জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ১,৬৭৭ ভোট। সে হিসেবে ৪ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র স্বতন্ত্র ছালিক আহমদ (ঘোড়া) ১৯৪ ভোট পেয়েছেন।

 

তৃতীয় ধাপে সিলেটের ৩ উপজেলায় ১৬ ইউপিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে গত রোববার (২৮ নভেম্বর)। ভোটের ফলাফলে ৯টিতে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বাকি ৭টির ৩টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ২টিতে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি, অপর দু’টিতে জাতীয় পার্টি ও জাসদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102