শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
ড্রেজার শ্রমিকের ইটের আঘাতে কুশিয়ারা নদীতে জেলে নিখোঁজ শাবিতে গভীর রাতে হাজারো শিক্ষার্থীর মশাল মিছিল শাবির ঘটনায় যেন আগুনে ঘি ঢালা না হয়-পরিকল্পনামন্ত্রী অনশন থেকে হাসপাতালে শাবির ছয় শিক্ষার্থী  ড. মোমেনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের শুভেচ্ছা কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা অনশনে অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকদের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ শাবির ভিসির কুরুচিপূর্ণ-অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ র‍্যাবকে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাদ দিতে জাতিসংঘে চিঠি আইসিসি বর্ষসেরা একাদশে টাইগারদের দাপট ভালো পরিবেশের জন্য ভালো সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: সেনাপ্রধান ড. মোমেনের নেতৃত্বে সিলেটে আসছে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়া ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের রোগমুক্তিতে দোয়া মাহফিল তাহিরপুরে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে পুলিশের মাইকিং শাবিতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশন শুরু শিক্ষার্থীদের

রক্তে রাঙা বিজয়: ৫০শে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদন:
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১
রক্তে রাঙা বিজয়: ৫০শে বাংলাদেশ - Natun Sylhet

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বিজয় এসেছিল ১৬ ডিসেম্বরে। আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম লাল-সূর্যের পতাকা। জাতি হিসেবে পেয়েছিলাম পরিচয় এবং গৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি।

বিশ্ব মানচিত্রে অংঙ্কিত হয়েছিল একটি মানচিত্র নাম বাংলাদেশ। ১৯৭১ থেকে ২০২১। বিজয়ের ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে বাংলদেশ।

শুধুই একটি গানের কলি জাতির আবেগ, ভালোবাসাকে রক্ত ঝরাতে শিখিয়েছে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’।

আমার সোনার বাংলাদেশের বয়স এখন ৫০ বছরে। সেদিনের সেই বাংলাদেশ পেরিয়ে এসেছে অনেকটা পথ। লাল সবুজ পতাকার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আরেকটি বিজয় দিবসে।

এবারের বিজয় দিবস শুধুই একটি বিজয় দিবস নয়। বাংলাদেশ নামটা জন্মের ৫০ বছর। স্বাধীনতার ৫০ বছর। বিজয়ের ৫০ বছর। এর সাথেই যখন যোগ হয় সেই বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখানো এক মহীরুহের জন্মশতবার্ষিকী। হ্যা, অন্য কেউ না, লাল সবুজের স্বপ্নদ্রষ্টা বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী- দুটো মিলিয়ে ২০২১ এর এই বিজয় দিবসটি যে আগের সব সময়ের চেয়ে একেবারেই অন্যরকম।

স্মরণকালের সেরা এবারের বিজয় দিবসটি যে পুরো বিশ্বের সামনে অবিস্মরণীয় ভাবেই উদযাপন করতে চায় স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার থেকে শুরু করে আপামর জনতা।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে সাত কোটি মানুষ নেমে এসেছিলো এই বাংলার রাস্তায়, ২০২১ এ এসে এদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নও তো তেমনি।

’৭১-এর কোনো এক শীতের বিকেলে যেমন পুরো বিশ্ব দেখেছিলো একটি নতুন দেশকে। স্বাধীনতার এই ৫০ বছরে এসে আবার এই পৃথিবী দেখুক নতুন এক বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার ’৫০-এ এসে লাল সবুজের গর্জন উঠুক আরও একবার।

এবার তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিন তথা ১৬ ডিসেম্বর উদযাপিত হবে বাংলার ইতিহাসে স্মরণকালের সেরা বিজয়োৎসব। এবারের বিজয় দিবসে তাই থাকছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

বিজয় দিবসের মূল অনুষ্ঠান সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণিল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠি হবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে।

এবার শুধু আমাদের দেশই না, বিজয় দিবস প্যারেডে অংশ নেবে ভারত, নেপাল, রাশিয়া, মেক্সিকো আর ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সার্বিক সহায়তা করা ভারত ও রাশিয়ার ওয়ার ভেটেরানদের সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবার।

তেজগাঁও পুরান বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সকাল সাড়ে ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যা ব, আনসার ও ভিডিপি এবং কারারক্ষীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ হবে।

একই সঙ্গে থাকছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাই পাস্ট ও অ্যারোবেটিক এয়ার শো। চলন্ত যান্ত্রিক সামরিক কন্টিনজেন্টের সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ পৌছে গেছেন ঢাকায়। আসার কথা রয়েছে ভুটানের সাবেক রাজা (চতুর্থ) জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুকের।

এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত। তাই দিনটিকে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দিবস হিসেবে উদযাপন করবে দুই দেশ।

পৃথিবীর ১৮টি দেশের রাজধানীতে যৌথভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বাংলাদেশ ও ভারত। ১৮টি রাজধানীর ভেতর রয়েছে- জাকার্তা, সিঙ্গাপুর সিটি, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, ক্যানবেরা, টোকিও, রিয়াদ, আবুধাবি, কাতার, মস্কো, লন্ডন, ব্রাসেলস, প্যারিস, জেনেভা, প্রিটোরিয়া, কায়রো, ওয়াশিংটন ও অটোয়া।

একাত্তরের রণাঙ্গণে এদেশের লাখো মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিলো দেশটাকে স্বাধীন করতে। নিজেদের রক্তের বিনিময়েই ছিনিয়ে এনেছিলো এক টুকরো মানচিত্র, একটা লাল সবুজের পতাকা।

৫০ পেরিয়ে এবারের বিজয় দিবসে আরেকটিবার সেদিনের সেই অনুপ্রেরণা ছুয়ে যাক বাংলার মাটির সন্তানদের। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বিশ্বের বুকে আরেকবার উচ্চারিত হোক বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102