শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
ড্রেজার শ্রমিকের ইটের আঘাতে কুশিয়ারা নদীতে জেলে নিখোঁজ শাবিতে গভীর রাতে হাজারো শিক্ষার্থীর মশাল মিছিল শাবির ঘটনায় যেন আগুনে ঘি ঢালা না হয়-পরিকল্পনামন্ত্রী অনশন থেকে হাসপাতালে শাবির ছয় শিক্ষার্থী  ড. মোমেনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের শুভেচ্ছা কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা অনশনে অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকদের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ শাবির ভিসির কুরুচিপূর্ণ-অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ র‍্যাবকে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাদ দিতে জাতিসংঘে চিঠি আইসিসি বর্ষসেরা একাদশে টাইগারদের দাপট ভালো পরিবেশের জন্য ভালো সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: সেনাপ্রধান ড. মোমেনের নেতৃত্বে সিলেটে আসছে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়া ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের রোগমুক্তিতে দোয়া মাহফিল তাহিরপুরে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে পুলিশের মাইকিং শাবিতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশন শুরু শিক্ষার্থীদের

প্রতারণার দায়ে ফেঁসে গেলেন এলিজাবেথ হোমস, হতে পারে ৮০ বছরের জেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২২
প্রতারণার দায়ে ফেঁসে গেলেন এলিজাবেথ হোমস, হতে পারে ৮০ বছরের জেল - Natun Sylhet

অল্প সময়েই বিলিনিয়ার হয়ে গিয়েছিলেন এলিজাবেথ হোমস। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া বাদ দিয়ে তিনি যখন ‘থেরানোস কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তার বয়স ১৯ বছর।

এরপর চারদিক থেকে আসতে থাকে বিনিয়োগ। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে তার কোম্পানির অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৯০০ কোটি ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারণার দায়ে ফেঁসে গেলেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমস অল্প বয়সেই কিভাবে এমন সফলতা অর্জন করলেন—তা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ে।

তদন্তে দেখা যায় তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এ নিয়ে অনেকদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে শুনানি হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সজ্ঞানে প্রতারণা করেছেন হোমস।

তিনি দাবি করেছিলেন, মাত্র দু’এক ফোঁটা রক্ত ব্যবহার করেই থেরানোস কোম্পানি আবিষ্কৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করা যায়। কিন্তু জুরিরা তাকে চারটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। এরমধ্যে একটি হলো—বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রতারণা; অপর তিনটি অভিযোগ ওয়্যার বিষয়ক। যদিও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন হোমস।

প্রতিটি অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২০ বছর করে জেল হতে পারে। সে হিসেবে তার সর্বোচ্চ ৮০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণের পর কবে শাস্তি ঘোষণা হবে সেই তারিখ এখনও জানা যায়নি। এছাড়া তাকে এখনও নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়নি। আগামী সপ্তাহে আরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

‘হোমসের বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এরমধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জুরিরা। বিচারক বলেছেন, জুরিরা অন্য তিনটি অভিযোগের বিষয়ে একমত হতে না পারলেও আংশিক রায় ঘোষণা করতে পারেন। হোমস যে প্রযুক্তি এনেছেন, তাতে প্যাথলজিতে এক ‘বৈপ্লবিক সমাধান’ এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ নিয়ে সারাবিশ্বে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর ফলে তিনি খুব অল্প বয়সে ৯০০ কোটি ডলারের মালিক হয়ে যান। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

২০১৫ সালে তারা অনুসন্ধানে দেখতে পায়, হোমস রক্ত পরীক্ষার যে প্রযুক্তি এনেছেন—তা কার্যকর নয়। তবে এ নিয়ে প্রায় চার মাস ধরে চলে বিচার প্রক্রিয়া। এতে হোমস সম্পর্কে দুটি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন আটজন পুরুষ ও চারজন নারী জুরি। বিনিয়োগকারীদের কাছে হোমস যে পণ্য বিক্রি করেছেন, তা ভুয়া ছিল—এ কথা তিনি জানতেন প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন ৩০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেন। শুনানিতে বেশ কিছু ল্যাবের পরিচালকরা সাক্ষ্য দেন। তারা জানান, থেরানোস প্রযুক্তিতে ত্রুটি ছিল। কিন্তু তাদের এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়।

সমাপনী যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর জেফ শেঙ্ক বলেন, ব্যবসায় ব্যর্থতা নিয়ে প্রতারণাকে বেছে নিয়েছিলেন হোমস। বিনিয়োগকারী এবং রোগীদের বিরুদ্ধে তিনি অসততাকে বেছে নেন। এটা শুধু নিষ্ঠুরতাই নয়, অপরাধও। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে হোমস থেরানোসের কর্মকাণ্ডে ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন। অস্বীকার করেছেন বিনিয়োগকারী বা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার কথা। এক্ষেত্রে সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনার ও দীর্ঘদিনের প্রেমিক সানি বলওয়ানিকে দায়ী করেছেন হোমস। সানি তার চেয়ে ১৯ বছরের বড়। হোমসের অভিযোগ, সানি তাকে মানসিক এবং যৌন নির্যাতন করেছেন।

যদিও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সানি। ২০১৬ সালে থেরানোসের প্রধান নির্বাহী থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এ সময়েই দুজনের এক দশকের সম্পর্কের ইতি ঘটে। ওদিকে আগামী মাসে আলাদা একটি মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সানিকে।

থেরানোস কোম্পানিতে মিডিয়া ম্যাগনেট বলে পরিচিত রুপার্ট মারডক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক মুঘল বলে পরিচিত ল্যারি এলিসনকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেছিলেন হোমস। ধনকুবেরদের কাছ থেকে ৯০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেন তিনি। তবে কেলেঙ্কারি বেরিয়ে আসার পর ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৮৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণ করেন হোমস। তার বাবা চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ান হোমস ইউএসএআইডিতে কাজ করতেন। মা নোয়েল হোমস ছিলেন কংগ্রেশনাল কমিটির কর্মী। তারা ছিলেন পারিবারিকভাবেই ধনী এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের কাছের মানুষ।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102