রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
এবার চাঁদে জমি কিনলেন সিলেটের সুজন! যুক্তরাজ্যে তিন দিনে ৩ বাংলাদেশি খুন, কমিউনিটিতে আতঙ্ক পুনর্বাসনেও কাজ হয়নি, ফের বেদখল ফুটপাত মহিউদ্দিন শিরু’র ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী শানিবার শামিম-জাহিরের পরিকল্পনায় বুথ ভেঙে ডাকাতি সিলেটে দেবরের হাতে ভাবি খুন সিলেটে ব্যাংকের বুথ ভেঙে টাকা লুট- চার ডাকাতের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সিলেটে ১৫ বছর পর চালু হচ্ছে শেখ হাসিনা পার্ক মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হতে নির্দেশ হাবিবের ৪৩ বছর আগে কেনা শেয়ারের দাম উঠল ১,৪৪৮ কোটি সিসিকের ৮৩৯ কোটি টাকার বাজেট পেশ নৌকা বাইচ থেকে ফেরার পথে কানাইঘাটে দুর্ঘটনায় আহত ৫, নিখোঁজ ১ সিলেটে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত সর্বনিম্ন সিলেটে পর্ণোভিডিও ভাইরালে জড়িত দুই আসামি গ্রেফতার সিলেটে রোগির মৃত্যু নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও স্বজনদের সংঘর্ষ

ফেন্সিংয়ে কমিটি রদবদল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক কলিমুল্লাহ

নতুন সিলেট ডেস্ক:
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
ফেন্সিংয়ে কমিটি রদবদল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক কলিমুল্লাহ - Natun Sylhet

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশনে সহ-সভাপতি করা হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সিনিয়র এই অধ্যাপককে। তিনি অধ্যাপনা ছাড়াও অভিনয় এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে আগে যুক্ত থাকলেও ক্রীড়াঙ্গনে সরাসরি সম্পৃক্ত হলেন এবারই প্রথম।

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কলিমুল্লাহ ফেন্সিংয়ে সম্পৃক্ততা নিয়ে বলেন, ‘আমি শিক্ষাঙ্গন ছাড়াও, সংস্কৃতিসহ বিভিন অনেক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। খেলাধুলার মধ্যে আমার পছন্দ একটু সীমিত। ওই সীমিত পছন্দের মধ্যে আমার ভালো লাগে আরচ্যারি ও ফেন্সিং। বেগম রোকেয়ার আদর্শের সঙ্গে ফেন্সিং খেলাটা খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০১৮ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য থাকাবস্থায় আমি ফেন্সিং শুরু করি সেখানে। বাংলাদেশে ফেন্সিংয়ের পেছনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট অবদান রাখছে।’

বাংলাদেশে আর্থ সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ফেন্সিং খেলার গুরুত্ব দেখছেন কলিমুল্লাহ, ‘তলোয়ারের সাথে উপমহাদেশের মানুষের একটা ঐতিহাসিক মনসতাত্ত্বিক যোগাযোগ রয়েছে। নারীদের আত্মরক্ষার্থেও এই খেলাটি বেশ কার্যকরী। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই খেলার মাধ্যমে দেশের সুনাম বৃদ্ধি সম্ভব। ফেন্সিং উন্নয়ন ও বিকাশের পেছনে আমি মেধা ও শ্রম দেব।’

১২ আগস্ট ফেন্সিংয়ে অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। দেশের ক্রীড়া ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তারা ১২ আগস্ট আগের অ্যাডহক কমিটির জায়গায় ফেন্সিং এসোসিয়েশনে আরেকটি অ্যাডহক কমিটির প্রজ্ঞাপন দেয়। ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলেও দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক কলিমুল্লাহ, নিম চন্দ্র ভৌমিকের মতো শিক্ষাবিদকে সম্পৃক্ত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ২৭ সদস্যের কমিটিতে একেবারে নতুন মুখের সঙ্গে আগের অনেকেও রয়েছেন। তবে অ্যাসোসিয়েশনের মূল পদ সাধারণ সম্পাদকে পরিবর্তন এসেছে। মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদকের পরিবর্তে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সেলিম ওমরাও খান তার স্থলাষিভিক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশনের আগে আরচ্যারি ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। আরচ্যারি ছেড়ে ২০০৭ সালে ফেন্সিং এসোসিয়েশন গড়েন কামরুল। সেই সময় থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে তিনি বিস্মিত, ‘ফেন্সিংয়ের জন্মলগ্ন থেকে আমি রয়েছি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে তীব্র লড়াই করে আমরা স্বর্ণ জিতেছি। কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই চলছিল এরপরও হঠাৎ রদবদল বোধগম্য নয়। কমিটি বা কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কোনো মতামত বা পর্যবেক্ষণ থাকলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে জানাতে পারত। এভাবে না জানিয়ে হঠাৎ প্রজ্ঞাপন দেয়ায় বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।’

দেশের ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনগুলোর নির্বাচন, কমিটি পরিবর্তনের এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। সংস্থাটির সচিব মাসুদ করিমের নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়ে ব্যাখ্যা, ‘আগে অ্যাডহক কমিটি ছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রয়োজন বোধে আরেকটি অ্যাডহক কমিটি করতে পারে। ’

বেশ কয়েকটি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে অ্যাডহক কমিটি এবং কয়েকটিতে নির্বাচিত কমিটি মেয়াদউত্তীর্ণ সেই ফেডারেশনগুলোর বদলে শুধুমাত্র ফেন্সিংয়ে অ্যাডহক কমিটির জায়গায় আরেকটি অ্যাডহক কমিটির প্রজ্ঞাপন দেওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশন যাত্রা শুরু করেছে। এক যুগের বেশি সময় পার হলেও এখনো ফেডারেশনে উন্নীত হতে পারেনি ফেন্সিং। ফেডারেশনে উন্নীত না হওয়া প্রসঙ্গে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফেডারেশনে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়া করলেও হতে পারেনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে।’

দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের পরও খেলাটি দেশে ফেডারেশন হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়াটা বেশ হতাশার। অ্যাসোসিয়েশন থাকায় ওই অর্থে নির্বাচন প্রক্রিয়া হয়নি এই সংগঠনে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অ্যাডহক কমিটি গঠনের উপরই চলেছে এই সংস্থা।

অ্যাডহক কমিটির নতুন সাধারণ সম্পাদক সেলিম ওমরাও খান সাংবাদিক। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তার সেভাবে পূর্ব সম্পৃক্ততা ছিল না। হঠাৎ ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একজন ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তি। পেশাগত কাজের পাশাপাশি টেনিসের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা ছিল।সরকার ( জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) আমাকে ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব দিয়েছে। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরুপে পালন করতে চাই। আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে স্বচ্ছতার মাধ্যমে ফেন্সিংকে বিকশিত করতে চাই।’

তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রজ্ঞাপন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। নির্বাচন প্রসঙ্গে নতুন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা মাত্র সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছি। সবার সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে পালনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

দেশের একটি অপ্রচলিত খেলা ফেন্সিং। ২০১৯ সালে কাঠমাণ্ডু সাফ গেমসে স্বর্ণ জেতার পরেই মূলত এই খেলাটি বাংলাদেশে আলোচনায় আসে। হঠাৎ ফেন্সিংয়ে অ্যাডহক কমিটির বদলে আরেকটি অ্যাডহক কমিটি হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের রদবদলই ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচনা এখন।

ফেন্সিংয়ের আগের কমিটির মতো এই কমিটিতেও যুগ্ম সম্পাদক রেজাউর রহমান সিনহা। কমিটি নিয়ে তার বক্তব্য, ‘অ্যাডহক কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ করে। কমিটি গঠন ও পরিবর্তনের ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবে। ফেন্সিংয়ের সংগঠক হিসেবে আমরা খেলার উন্নয়নে কাজ করছি। ২০১৭ সালে নতুন সভাপতি শোয়েব স্যার ( শোয়েব চৌধুরী) আসার পর থেকে আমাদের কর্মকান্ড অনেক গতিশীল হয়েছে। তার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ, খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণ হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলেই ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমরা স্বর্ণপদক জিততে সমর্থ হই। কামরুল ভাই ফেন্সিংয়ের জন্মলগ্ন থেকে। তার অবদান অনেক। বর্তমান কমিটিতেও তিনি সহ-সভাপতি। এই কমিটিতে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। সবাই সবার জায়গা থেকে কাজ করলে অবশ্যই ফেন্সিং বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো পদক পাওয়া সম্ভব।’

১২ আগস্ট প্রজ্ঞাপনের পর মাত্র দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্বাহী সভা করেছে অ্যাডহক কমিটি। ২৭ জন সদস্যের মধ্যে ৬০ শতাংশ উপস্থিত ছিল সেই সভায়। কমিটি পরিবর্তন হওয়ায় সাংগঠনিক কাগজ, আর্থিক এবং বিভিন্ন বিষয়াদির প্রক্রিয়া এখনো চলছে।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...
© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102