মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
হবিগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান নবম শ্রেণির ছাত্রী অষ্টমণি সমাজ সেবা উপ-পরিচালক! ফেসবুক ব্যবহার করতে লাগবে অভিভাবকের অনুমতি আকরামের মুক্তির দাবিতে সিলেটে ছাত্রদলের বিক্ষোভ দোয়ারায় স্কুল শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওসমানী হাসপাতালের ১৭ কর্মচারীকে বিদায় সংবর্ধনা ‘হাসান মার্কেটের উন্নয়নে সিসিক অতীতেও কাজ করেছে’ ‘দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত’ ৮২ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদনের সময় বঙ্গমাতার নামে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণের সিদ্ধান্ত শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্কে এগিয়ে যাবে দেশ জকিগঞ্জে ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার খুলেছে শাবি, হলে ফেরা শিক্ষার্থীদের বরণ নাইজেরিয়ায় তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণ, নিহত ২৫ জিমেইল ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফিচার

চাউলধনী হাওরে কৃষক ও স্কুলছাত্র খুন: বিচারের দাবি

নতুন সিলেট প্রতিবেদক :
  • আপডেট : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
চাউলধনী হাওরে কৃষক ও স্কুলছাত্র খুন: বিচারের দাবি - Natun Sylhet

বিশ্বনাথের চাউলধনী হাওরে কৃষক ছরকুম আলী দয়াল ও স্কুলছাত্র সুমেলের খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছে চাউলধনী হাওর রক্ষা ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলন’। বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানায়।

লিখিত বক্তব্য তারা হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, হাওরের লিজ বাতিলের পাশাপাশি দশঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিও জানান তারা।

এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাউলধনী হাওর রক্ষা ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বনাথ থানার সাবেক ওসি শামীম মূসা, এসআই ফজলু, সমবায় কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী তালুকদার ও মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ভূইয়াকেও আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের দাবি জানানো হয়।

হাওরের আশপাশের ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রামের কৃষকদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দশঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে অবৈধ সমিতি ৬ বছরের জন্য হাওরের ১৭৮.৯৮ একর সরকারি জমি লিজ নেয়। কৃষ্ণা রানী ও সফিকুল ইসলামের যোগসাজশে অযোগ্য স্বত্ত্বেও তারা লিজ পায়।

হাওরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার একর জমি রয়েছে। হাওর লিজ নিয়ে সমিতি সাবলিজ প্রদান করে ইসলামপুর গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী অমৎস্যজীবী সাইফুল ও তার সহযোগীদের। যা ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইনে বেআইনী। সাইফুল সহযোগীদের নিয়ে গত ১০ বছর ধরে কৃষকের জমি দখল করে পানি সেচ বা শুকিয়ে মাছ ধরে এবং একমাত্র ফসল ইরি-বোরোর বীজ বপন ও চারা রোপনে বাধা সৃষ্টি করে। যার কারণে শত কোটি টাকার ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৮ জানুয়ারি চৈতননগর গ্রামের কৃষক ছরকুম আলী দয়াল নিজের কৃষি জমিতে কাজ করতে গেলে সাইফুল ও তার লোকজন মিলে দয়ালকে হত্যা করে অপরাধীরা নিরাপদে পালিয়ে গেছে। ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় ৩০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। থানায় মামলা করতে গিয়ে দয়ালের ভাতিজা আহমদ আলীকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জনতার চাপে ৫দিন পর মামলা নেওয়া হয়। ওসি শামীম মূসা ও তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই ফজলু অপরাধীদের নানাভাবে সহযোগীতা করেছেন অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত না করে মাত্র ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পরে বাদীর নারাজি আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এটি পুনঃতদন্ত করছে।

আবুল কালাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সাইফুল ও দলবল মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে বরাদ্দের ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে নির্ধারিত স্থানে মাটি না কেটে চৈতননগরের নজির উদ্দিনের নিজস্ব জমি ও বাড়িতে জোরপূর্বক মাটি কাটতে যায়। মুরব্বিদের নিয়ে নজির বিষয়টি জানতে চাইলে সাইফুল ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুঁড়ে। এতে নজিরের ভাতিজা স্কুলছাত্র সুমেল আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। নজির উদ্দিন, সুমেলের পিতা মানিক মিয়াসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন সেদিন। সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজ্জিল বাদী হয়ে সাইফুলকে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৫ থেকে ১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।’

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সুমেল হত্যার পর সাইফুলকে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সহযোগীতা করা হয়েছে। আলামতও নষ্ট করা হয়েছে। এসব ঘটনা এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবুও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ সাইফুলের দুটি পাসপোর্ট জব্দ করে; সেগুলো ছাড়িয়ে নিতেও সাইফুল বিভিন্নমাধ্যমে ও সরাসরি থানার ফটকে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আসামিরা ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে গেলে সাইফুল ও তার সহযোগী নজরুল, সদরুল, সিরাজ, আছরিককে ২৮ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। বাকি ১৫ জন আসামিকে ৬ সপ্তাহের জামিন দেন। এরপর থেকেই সাইফুল ও তার লোকজন মামলা তুলে নিতে দুই মামলার বাদিদের হুমকি দিচ্ছে। যার কারণে দুটি জিডিও করা হয়েছে।

‘দীর্ঘদিন ধরে হাওরের জমির সাথে কৃষকদের জমির সীমানা নির্ধারণের দীর্ঘ দাবির পর হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ প্রদান করেছে উচ্চ আদালত। সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়। মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ভূইয়া সরেজমিনে তদন্তে না গিয়েই অজ্ঞাত কারণে কৃষকদের বিরুদ্ধে রির্পোট দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, নজির উদ্দিন, আহমদ আলী, মো. মানিক মিয়া, শাহাব উদ্দিন, মো. শামসুদ্দিন, মাওলানা ছমিরউদ্দিন, মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102