বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
সিলেটে উন্নয়নের নামে অর্ধশত ছায়াবৃক্ষ কাটলো সিসিক সিলেটে ৪ দিনের সফরে আসছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ‘দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায় বিএনপি’ সিলেটে কমেছে করোনা আক্রান্ত-মৃত্যু সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা আসছে রাতে স্পেনে গিয়েই স্বামীকে অচেতন করে সন্তানসহ স্ত্রীর চম্পট! অনুমোদন ছাড়া প্রায় কোটি টাকার গাছ কাটল সিসিক ‘মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই শান্তি নিহিত’ বাংলাদেশকে আরও ২৫ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র আরিয়ানের জন্য ক্ষতির মুখে সালমান ফেসবুকের নাম পরিবর্তন আসতে পারে অসামাজিক কাজে লিপ্ত, ৯ নারী-পুরুষ গ্রেফতার শান্তি ও মুক্তির সহজ আমল এবার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উ. কোরিয়ার শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ

স্থায়ী জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

নতুন সিলেট ডেস্ক :
  • আপডেট : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
স্থায়ী জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি - Natun Sylhet

বনানী থানার মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরীমনি এদিন আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে
পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মামলার নথিপত্র মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৩ আসামির মধ্যে পরীমনির পাশাপাশি কবীর হোসেনকেও জামিন দিয়েছেন আদালত। আর পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু এ মামলায় স্থায়ী জামিনে আছেন।
এর আগে, বেলা ২টার দিকে আদালতের এজলাসে হাজির হয়ে সামনের বেঞ্চে বসেন পরীমনি। সিঁড়ি বেয়ে ওঠায় এ সময় তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল।

২টা ১২ মিনিটের আদালতে কার্যক্রম শুরু হলে বেঞ্চ থেকে উঠে কাঠগড়ায় যান পরীমনি। শুনানিতে প্রথমে পরীমনির পক্ষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী পরীমনির জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, এ মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হওয়া পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। চার্জশিট এসে গেছে। আমরা এখন তার জামিন প্রার্থনা করছি। নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, তিনি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। অনেকগুলো সিনেমার কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। এর আগে তিনি মামলায় জামিন পান। জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি। এবারও আমরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করবো না।

পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু আদালতকে বলেন, আগে থেকে এই মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। সাধারণত সকাল ১০টায় প্রত্যেক আসামির আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আসামি পরীমনির বেলা একটা পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি। পিপি আবদুল্লাহ আবু আরও বলেন, আমরা দুপুর সাড়ে ১২টায় আদালতে এসেছি। তখনো আসামি আসেননি। আদালতের প্রতি তিনি অসম্মান দেখিয়েছেন। যখন খুশি তখন আদালতে আসলাম। এটা মামাবাড়ির আবদার না। আইন সবার জন্য সমান। প্রত্যেককে আইন মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে হাজির হতে হবে। আদালতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। পরীমনির কাছ থেকে বিদেশি মদসহ ভয়ঙ্কর রকমের মাদক এলএসডি-আইস পাওয়া গেছে। এরপর পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা আদালতে বলেন, স্যার, এ রকম ভুল আর হবে না। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দেন।
সূত্র জানায়, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আদালতে আসেন পরীমনি। ছয়তলা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। শুনানির শেষ পর্যায়ে ক্লান্তিতে আদালত কক্ষে এজলাসের ভেতরেই শুয়ে পড়েন তিনি। পরে তিনি ওই আদালত থেকে বের হয়ে পাশের আদালতের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা পরীমনির ছবি, ভিডিও করতে ভিড় জমান। পুলিশ ভিড় কমানোর চেষ্টা করে। পরে পরীমনি আবার আদালতের ভেতরে চলে যান। সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পরীমনি। কবীর হাওলাদারের পায়ের ওপর মাথা দিয়ে বসে থাকেন পরীমনি। পরে তার মাথায় পানি দেয়া হয়। এরপর বেঞ্চের ওপর শুয়ে পড়েন তিনি। পরে কিছুট সুস্থ বোধ করলে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভিড় সরিয়ে পরীমনিকে তার গাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর আদালত থেকে চলে যান পরীমনি।

পরীমনির তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে পরীমনিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি। অভিযুক্ত অপর ২ আসামি হলেন- আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন। আদালত সূত্র জানায়, মামলার অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে তিনি মামলার ডকেট (কেস ডকুমেন্টস) পেয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ঘটনাস্থল বনানীর বাড়িটি সরজমিন পরিদর্শন করলেও আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের খসড়া-মানচিত্র ও সূচিপত্র সন্তোষজনক মনে করে নিজে থেকে করার প্রয়োজন মনে করেননি। সিআইডির কাছে মামলা তদন্তে থাকা অবস্থায় আরও একজন আসামি কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের আরেক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা, একইসঙ্গে জব্দ করা মাদকদ্রব্য রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠান। অভিযোগপত্রে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, পরীমনিসহ অন্যদের মাদকের লাইসেন্স (পারমিট) আছে কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পরীমনিসহ বাকি দুই আসামিদের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যের মজুত, সংরক্ষণ ও সংগ্রহের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা এসব মাদক বাকি দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের সহায়তায় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ক্রয় করে ওই মাদকদ্রব্য পরীমনি নিজের বাসায় মজুত রেখেছেন বলে স্বীকার করেছেন- অভিযোগপত্রে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পরীমনি তার ব্যবহার করা হ্যারিয়ার প্রাইভেট গাড়িটি মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করতেন বলে দাবি করেছে সিআইডি। তবে, পরীমনি ১৩ই জানুয়ারি ২০২০ সাল থেকে ৩০শে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বিদেশি মদ সেবনের একটি লাইসেন্স (পারমিট) গ্রহণ করেন, কিন্তু পরে মাদক সেবনের পারমিটটি আর নবায়ন করেননি, যেটি এর মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। মামলার জব্দ করা আলামত রাসায়নিক পরীক্ষা করে জানা যায়, ৭টি প্লাস্টিকের মদের বোতলে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৪.২%, ১২.৩%, ১২.৬%, ১১.৭%, ১২.১%, ১৫.২% ও ১১.২%। কাগজের প্যাকেটে রক্ষিত দানাদার পদার্থে মেথামেটাফিন এবং ব্লটার পেপারে এলএসডি পাওয়া যায়। মামলাটির সার্বিক তদন্তে ও সাক্ষ্যপ্রমাণে মামলার এজাহার নামীয় আসামি শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি (৩১), আশরাফুল ইসলাম দিপু (২৯) ও মো. কবির হোসেন জমাদ্দার (৫৫) আসামিরা অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য এলএসডি, আইস ও মাদক সেবনের উপকরণ পাইপ ক্রয় করে নিজ বাসায় সংরক্ষণ, মজুত, দখল ও নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং মাদক পরিবহনে গাড়ি ব্যবহার ও সহায়তা করেন বলে উল্লেখ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ১০(ক), ২৪(খ), ২৯(ক), ৩৮ ও ৪২(১) ধারায় পরীমনি অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ৩১শে আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। গত ২২শে আগস্ট কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতেই পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ই সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। এতদিন পর শুনানির দিন ধার্য করায় পরীমনির আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান। তারা দ্রুত জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জামিন শুনানির দিন এগিয়ে এনে ১৩ই সেপ্টেম্বরের বদলে ৩১শে আগস্ট ধার্য করেন।
গত ৪ঠা আগস্ট রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় পরীমনির বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে বলে জানায় র‌্যাব। পরদিন ৫ই আগস্ট র‌্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। এরপর ৩ দফায় মোট ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় পরীমনিকে। প্রথম দফায় ৫ই আগস্ট ৪ দিন, দ্বিতীয় দফায় ১০ই আগস্ট ২ দিন এবং ৩য় দফায় ১৯শে আগস্ট ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় তার।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102