শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
‘বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি এ দেশের অমূল্য সম্পদ’ খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ইভ্যালির ওয়েবসাইট-অ্যাপ বন্ধ শেখঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিদর্শনে পরিকল্পনামন্ত্রী আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতায় রাহুলের স্বর্ণপদক জয়  ৬শ’ কোটিতে ৩২০ কোরিয়ান এসি বাস কিনবে সরকার সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে নিহত ১৬০ সিলেটে কাল যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ শেখ হাসিনা একজন স্ট্রং ক্লাইমেট ফাইটার-পরিকল্পনামন্ত্রী মহানবীর জীবনাদর্শে মুক্তি নিহিত-শফিকুর রহমান চৌধুরী শাবির নৃবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জাকারিয়া ছাত্রলীগের কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে গোলাপগঞ্জে আনন্দ মিছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হবে-্অ্যাডভোকেট জামান জুমার দিনের সুন্নাত আমল সিলেটে এবার প্লাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় ছাত্রলীগ

আপিলে ঝুলছে ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার

নতুন সিলেট ডেস্ক:
  • আপডেট : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
আপিলে ঝুলছে ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার - Natun Sylhet

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ কায়সারের রিভিউ আবেদনও রয়েছে। এসব যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে সিলেট বিভাগের পাঁচজন রয়েছেন।

অভিযোগ আছে, ওই রিভিউ আবেদন ও যুদ্ধাপরাধীদের আপিল দ্রুত শুনানি করতে রাষ্ট্রপক্ষের তেমন উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৩৭ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের মামলা বিচারাধীন।

জানা গেছে, বিচারক শূন্যতায় ট্রাইব্যুনালেও বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চ থাকার কারণে যুদ্ধাপরাধীদের আপিল ও রিভিউ আবেদনের শুনানি দ্রুত করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে একজন বিচারপতিকে দ্রুত নিয়োগ দিলে বিচার প্রক্রিয়ায় যে স্থবিরতা তা কেটে যাবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার আপিল বিভাগে ঝুলে আছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা জামায়াত নেতা এ টি এম আজহার ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের রিভিউ আবেদনও আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পর্যায়ক্রমে আরও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ও খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক খান তাহের, কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদ, মোসলেম প্রধান, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক, জামালপুরের সামসুল হক ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলী এবং যশোরের সাবেক এমপি ও জামায়াত নেতা সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, নোয়াখালীর সুধারামের আমীর আলী ও জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজারের উজের আহমেদ ও ইউনুছ আহমেদ, ফুলবাড়িয়ার রিয়াজউদ্দিন ফকিরসহ ২৯ জন।

যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় তিন বছর ঝুলে থাকার পর ২০১৯ সালের শেষের দিকে যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানিতে গতির সঞ্চার হয়। ওই সময়ে আপিল শুনানি শেষে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরই মধ্যে দেশে আঘাত হানে করোনাভাইরাস। বন্ধ হয়ে যায় আদালত। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানি।

এদিকে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখনও যুদ্ধাপরাধ মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। আমি মনে করি, শহীদদের আত্মার শান্তির জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজন।

‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি; মামলাজটের কারণে যদি আপিল বিভাগ যুদ্ধাপরাধীদের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করতে না পারেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আরও বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হোক। তিনজন বিচারপতিকে দিয়ে ট্রাইব্যুনালের ভেতরেই খণ্ডকালীন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে। সেখানে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ মামলার আপিল নিষ্পত্তি করা সম্ভব।’

কম্বোডিয়ার যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রসঙ্গ তুলে শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, তারা এ পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল। আমি মনে করি, যুদ্ধাপরাধ মামলার আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আমরা তো উদ্যোগ নিতে পারব না। এখন তো আপিল বিভাগে রিভিউ শুনানি শুরু হয়েছে। আশা করছি দুই যুদ্ধাপরাধীর রিভিউ শুনানি ২১ অক্টোবর আদালত খোলার পর শুরু হবে।

আপিল শুনানিতে বিচারক স্বল্পতার প্রসঙ্গ তুলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আগে আপিল বিভাগে দুটি বেঞ্চ ছিল। এ কারণে তখন আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি হতো। এখন বিচারক স্বল্পতার কারণে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চে বিচারকাজ চলছে। এ কারণে সময় লাগছে। পর্যায়ক্রমে যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানি শুরু হবে।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102