বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
সাংবাদিক এনামুল কবীরকে হত্যার হুমকি সিলেটে উন্নয়নের নামে অর্ধশত ছায়াবৃক্ষ কাটলো সিসিক সিলেটে ৪ দিনের সফরে আসছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ‘দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায় বিএনপি’ সিলেটে কমেছে করোনা আক্রান্ত-মৃত্যু সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা আসছে রাতে স্পেনে গিয়েই স্বামীকে অচেতন করে সন্তানসহ স্ত্রীর চম্পট! অনুমোদন ছাড়া প্রায় কোটি টাকার গাছ কাটল সিসিক ‘মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই শান্তি নিহিত’ বাংলাদেশকে আরও ২৫ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র আরিয়ানের জন্য ক্ষতির মুখে সালমান ফেসবুকের নাম পরিবর্তন আসতে পারে অসামাজিক কাজে লিপ্ত, ৯ নারী-পুরুষ গ্রেফতার শান্তি ও মুক্তির সহজ আমল এবার সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উ. কোরিয়ার

ফের নেপালে স্বপ্নভঙ্গ

স্পোর্টস ডেস্ক :
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
ফের নেপালে স্বপ্নভঙ্গ - Natun Sylhet

আবারো সেই নেপাল। আবারো স্বপ্নভঙ্গ। এই নেপালের কাছেই তিন বছর আগে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পথচলা থেমেছিল বাংলাদেশের। এবার তাদের কাছেই স্বপ্নভঙ্গ হলো মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে। ফাইনালের টিকিট পেতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল জয়। খেলা শুরুর ৯ মিনিটে দেয়া সুমন রেজার গোলে সে পথেই আগাচ্ছিল বাংলাদেশ। গোলটি ধরে রেখেছিল ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত। মালের স্টেডিয়ামের প্রবাসী বাংলাদেশিরা যখন জয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই বক্সের মধ্যে ফাউল করে বিপদ ডেকে আনেন বিশ্বনাথ ঘোষ। পেনাল্টির বাঁশি বাজায় উজবেকিস্তানের রেফারি আকরল।

পেনাল্টি থেকে গোল করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তোলেন অঞ্জন বিষ্টা। আর ১৬ বছরের অধরা ফাইনাল অধরাই থেকে যায় বাংলাদেশের।
২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। দু’বছর পর করাচিতে আধিপত্য বজায় রেখে বাংলাদেশ পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালে। সেবার বাংলাদেশের শিরোপায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারত। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আধিপত্য কমেছে বাংলাদেশের। কমতে কমতে যা শেষ চার আসরে পৌঁছে গিয়েছিল তলানিতে। ক্রমাগত নিম্নগামী ফুটবলে খানিকটা আশার বাতিঘর হয়ে এসেছিল এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। শ্রীলঙ্কাকে হারানো, ভারতের সঙ্গে ড্রর পর ফাইনাল নামক স্বপ্নটা বাস্তবে প্রায় নেমে এসেছিল। মাঝখানে মালদ্বীপের সঙ্গে হারেও ম্লান হয়নি সেই স্বপ্ন। ফাইনালের প্রতীক্ষিত মঞ্চে পা রাখতে প্রয়োজন একটা মাত্র জয়। মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে গতকাল শুরু থেকেই সে পথেই এগিয় ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের নয় মিনিটে সুমন রেজার গোলে লিড পেয়েছিল ব্রুজনের শিষ্যরা। তবে সময় জতো গড়িয়েছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে নেপাল। এ সময়ে রেফারির সিদ্ধান্তও বাংলাদেশর পক্ষে আসেনি। বিশেষ করে নেপালের যে পেনাল্টি তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। রহিত চাদের সঙ্গে কোনো প্রকার সংঘর্ষ হয়নি বিশ্বনাথের। তবুও বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাউলের বাঁশি বাজায় এই রেফারি। আনিসুর রহমান জিকুর লাল কার্ড নিয়েও প্রশ্ন আছে। বক্সের বাইরে গিয়ে বলটি হাতে লাগিয়েছেন জিকু। এখানে তাকে লাল কার্ড না দেখিয়ে হলুদ কার্ডও দেখাতে পারতেন রেফারি।

এদিন একাদশে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। দুই হলুদ কার্ডের কারণে কাল একাদশে ছিলেন না ভারত ম্যাচের গোলদাতা ইয়াছিন আরাফাত। তাই তারিক কাজীকে লেফটব্যাকে নিয়ে গিয়ে টুটুল হোসেন বাদশাকে তপু বর্মনের সঙ্গে সেন্টারব্যাক পজিশনে নিয়ে আসেন কোচ অস্কার ব্রুজন। ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথম সেট-পিছ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাম প্রান্ত থেকে জামাল ভুঁইয়ার ফ্রি-কিক নেপালের এক ডিফেন্ডারের মাথা ছুঁয়ে গোলমুখে আসলে সুমন রেজার হেড জালে জড়ায়। ১৫ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট করে নেপাল। ডানদিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক দেন নবযুগ শ্রেষ্ঠা। কিন্তু রোহিতের শট বাইরে যায়। ২১ মিনিটে দিনেশ রাজবংশীর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে একাই ডানদিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ইব্রাহিমকে পাস না বাড়িয়ে শট নেন সুমন রেজা। যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যোগ করা সময়ে বাম দিক থেকে রোহিত চাদের ক্রসে আয়ুস ঘালানের হেড বাইরে যায়। ম্যাচের ৬২ মিনটে পায়ে ব্যথা পেয়ে উঠে যান জামাল ভুঁইয়া। তার জায়গায় মাঠে নামেন মিডফিল্ডার সোহেল রানা। পরের মিনিটে সাদের ফ্রিকিক সুমনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুমন রেজার প্রচেষ্টা কাজে আসেনি। শেষদিকে নেপাল অলআউট ফুটবল খেলেছে। নিজেদের ডিফেন্স আগলে এ সময় কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়েছে বাংলাদেশ। ৭৫ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে আক্রমণের আরও ধার বাড়াতে চেষ্টা করেন নেপালের কুয়েতের কোচ আবদুল্লাহ আল মুতায়েরি। ৭৯ মিনিটে জিকু লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

রাকিবের ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সের বাইরে হ্যান্ডবল করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। এ সময় তাকে সরাসরি লালকার্ড দেখান উজবেকিস্তানের রেফারি আকরল। বিপলুর জায়গায় গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে মাঠে নামান ব্রুজন। সুমন রেজার বদলে ফাহাদকে মাঠে নামিয়ে মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন ব্রুজন। এতে লাভ হয়নি। শেষ ১০ মিনিট আর রোখা যায়নি নেপালকে।
এই সময়ে একের পর এক আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। এতে মেজাজ হারিয়ে একের পর এক ফাউল করে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। রক্ষণে তপু, বাদশা নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি। সেরাটা দিতে পারেননি তারিক কাজীও। সঙ্গে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে ৮৮ মিনটে কপাল পোড়ে বাংলাদেশের। অযথা বিশ্বনাথের ফাউলে পেনাল্টি পায় নেপাল। ২০১৮ সালের পর আবারো কপাল পোড়ে বাংলাদেশের। তিন বছর আগে দেশের মাটিতে এক পয়েন্ট দরকার ছিল বাংলাদেশের। নেপালের দরকার ছিল জয়। দেশের মাটিতে জামাল-তপুদের কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে চলে গিয়েছিল নেপাল। তাদের কাল দরকার ছিল এক পয়েন্ট। সেখানেও অঞ্জ বিষ্টার গোলে ফাইনালে টিকিট কাটলো হিমালয়কণ্যারা

বাংলাদেশ একাদশ: আনিসুর রহমান জিকো (গোলরক্ষক), তপু বর্মণ, তারিক কাজী, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, জামাল ভুঁইয়া (অধিনায়ক) (সোহেল রানা), ইব্রাহীম (মতিন), বিপলু, সাদ উদ্দিন, রাকিব হোসেন ও সুমন রেজা।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102