বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫০ হারের নিয়তি খণ্ডাতে পারেনি বাংলাদেশ নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী আমিরাতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন ৬ মাস রাতে বন্ধ থাকবে ঢাকার রানওয়ে, জরুরি অবতরণ সিলেটে খালেদার অসুস্থতাকে পুঁজি করে বিএনপি আন্দোলন করছে-প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথে পুকুরে ডুবে প্রতিবন্ধী যুবতীর মৃত্যু মৌলভীবাজারে ইটভাটা শ্রমিককে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা `কর্মগুনে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছেন অ্যাডভোকেট জালাল’ কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশ-বসনিয়া সমঝোতা আলোচনায় সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ঝুমন দাশের জামিন বহাল ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: প্রতিরক্ষা প্রধানসহ নিহত ১৩ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় রুপিসহ যুবক আটক জাতির পিতার আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে যুবলীগকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৫৭ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন : ডব্লিউএইচও

রাহাত হত্যা: তানভীর-সানিকে ধরতে নির্ঘুম সিআইডি

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:
  • আপডেট : শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
রাহাত হত্যা: তানভীর-সানিকে ধরতে নির্ঘুম সিআইডি - Natun Sylhet

সিলেটের কলেজ ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত হত্যার মূল হোতা সামসুদ্দোহা সাদি।গত ২১ অ্ক্টোবর হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যায় সে। ঘটনার একদিন পর দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা হলে তদেন্তের দায়িত্ব পান থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কল্লোল গোস্বামী। আলোচিত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেলেও সাফল্য দেখাতে পারেনি দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

২৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে সাদিকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেফতারে সফল হওয়ায় মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সংস্থাটি।পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে মামলার ডকেট হস্তান্তর করা হয় সিআইডির হাতে। ২৯ অক্টোবর সাদি নিজেকে জড়িয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আদালতের বিচারক জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

বর্তমানে সে কারাগারে থাকলেও এখনো অধরা খুনের পরিকল্পনাকারী সাদির দুই বন্ধু তানভীর আহমদ ও ওহিদুর রহমান সানি। নিহত আরিফুল ইসলাম রাহাত ও তার হত্যাকারীরা একই কলেজের ছাত্র ও সহপাঠি। তানভীর ও সানি এখনো আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের হদিস পাচ্ছে না মামলার তদন্তে নিয়োজিত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হতে চললেও অপর দুই আসামির অবস্থান এখনো সুনিশ্চিত হতে পারেনি মামলার তদন্ত সংস্থাটি।

অবশ্য রাহাত হত্যার মূল হোতা প্রধান আসামি সাদিকে গ্রেফতারে সফলতার পাশাপাশি অপর দুই আসামিকে অচিরেই গ্রেফতারে আশাবাদি সিআইডির তদন্ত টিম।দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপর দুই আসামিকেও গ্রেফতার করা হবে, এমনটি আশাবাদি সিআইডি। অভিযুক্ত পলাতকদের ধরতে মাঠে কাজ করছে সিআইডির সব ক’টি টিম।

সিআইডি সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুজ্ঞান চাকমা বলেন, মূল আসামি ধরা পড়লেও বাকি দুজন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ওই দুই আসামিকেও গ্রেফতার করতে জোর অভিযান চালাচ্ছে তার টিম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপ পরিদর্শক (এসআই) রিপন দে বলেন, রাহাত হত্যা মামলার বাকি দুই আসামি তানভীর ও সানীকে ঘিরে জাল বিস্তার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আসামিরা তাদের জালে আটকা পড়বে।তাদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গত ২১ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ গেটের ভেতরে খুন হন উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সুরমান আলীর ছেলে ও দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮)। সেদিন দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম রাফিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে যান রাহাত। সেখানে মোবাইল ফোনে বন্ধুদের না পেয়ে সোয়া ১২টার দিকে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন।

কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রধান ফটকের ভেতরে থাকা অবস্থায় আরেকটি মোটরসাইকেলে করে এসে অতর্কিতভাবে রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন ছাত্রলীগের কর্মী সামসুদ্দোহা সাদি ও তার সহযোগীরা। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টাকালে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। নিহত রাহাতও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।

ঘটনার একদিন পর (২৩ অক্টোবর) রাহাতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় সাদিসহ ৩ জনের নামোল্লেখ অজ্ঞাত ৬/৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে তানভির এবং আহমদপুর গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার ছেলে সানির নাম উল্লেখ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে শামসুদ্দোহা সাদী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন সিনিয়র না মানায় রাহাতকে শায়েস্তা করতে গিয়ে ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম হাজীপুর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে ঢাকা হয়ে কুষ্টিয়ায় চলে যান। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।তার দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে রাহাত হত্যার পর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজে পাঠদান বন্ধ ছিল। ঘটনার মূল অভিযুক্ত শামসুদ্দোহা গ্রেফতার হওয়ায় বুধবার থেকে কলেজে আবার পাঠদান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামছুল ইসলাম।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102