রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
সিলেটে ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবিতে জেলা বিএনপির লিফলেট বিতরণ সিলেটের ৭৭ ইউনিয়নে চলছে ভোটগ্রহণ পঞ্চম ধাপে সিলেটের আরও ৭৫ ইউপিতে ভোট ৫ জানুয়ারি  রাত পোহালে ৭৭ ইউপিতে ভোট: ঝুঁকিপূর্ণ সিলেটের ১৩৮ কেন্দ্র দোয়ারায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি নূরল আমীন এর ‘ভাটি বাঙলার উচ্ছ্বাস’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হবিগঞ্জে ১৩০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ৪৪ জন কমলগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান শুরু খালেদা জিয়ার সুস্থতায় ছাত্রদলের শিরণী বিতরণ ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করছে বাংলাদেশ’ বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষে আবৃত্তি উৎসবের লোগো উন্মোচন তাহিরপুর সীমান্তে গাঁজা-মদের চালানসহ আটক ৩ শাবিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম শুরু

বাবা-মায়ের ঝুলন্ত লাশের পাশে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ

নতুন সিলেট প্রতিবেদক হবিগঞ্জ :
  • আপডেট : শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত লাশের পাশে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ - Natun Sylhet

এক রশিতে ঝুলছে আবদুর রউফ ও আলেয়া আক্তার দম্পতির মরদেহ। পাশেই তাদের শিশু সন্তানকে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন একজন সহকারী পুলিশ সুপার। মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ পাশে বসিয়ে শিশুসন্তানকে জিজ্ঞাবাসাদের ঘটনায় তার (সহকারী পুলিশ সুপারের) দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মহসিন আল মুরাদ। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।

ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামে। শুক্রবার দুপুরের দিকে ওই গ্রাম থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

তবে সহকারী পুলিশ সুপার (চুনারুঘাট সার্কেল) মহসিন মুরাদ বলেন, ‘এখানে (লাশের পাশে বসিয়ে) আমরা তাদের মা-বাবার মৃত্যু সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। তাদের মানসিক অবস্থা ঠিক রাখার জন্য কেবল নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করেছি।’

কেন বাবা-মায়ের ঝুলন্ত মরদেহের পাশে শিশুকে তার নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করতে হবে- এমন প্রশ্ন করলে এএসপি মহসিন আবার বলেন, ‌‘কিছুক্ষণমাত্র কথা বলেছি।’

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী বলছেন, বাবা-মা হারানো শিশুটি এমনিতেই মানসিকভাবে চাপে ছিল। তাকে যত দ্রুত সম্ভব এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া উচিত ছিল। সেটি না করে পুলিশ কর্মকর্তা যেটি করেছেন, তা সেই শিশুর মনোজগতে চাপ তৈরি করবে।

হবিগঞ্জের আইনজীবী শাহ্ ফখরুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক এবং আইনের দৃষ্টিতে খুবই অমানবিক। মা-বাবার মরদেহের পাশে এই শিশুদের সঙ্গে কথা বলা ঠিক হয়নি। এতে তাদের মনোজগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে অবশ্যই আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, ‘আমাদের এভিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, শিশু মামলায় জড়িত হতে পারে। তবে শর্ত হলো, তার কথা মানুষের বুঝতে পারতে হবে এবং সে যে ঘটনাটা বুঝছে সেই মেসেজটা তার থাকতে হবে।

‘যদি কোনো পুলিশ অফিসার মা-বাবার মরদেহের পাশে বসিয়ে শিশুসন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তাহলে আমি মনে করি সেটি যথাযথ প্রসিকিউরডভাবে হয়নি। যেহেতু শিশুটির মা-বাবা মারা গেছে, তার মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুলিশের উচিত ছিল তাদের সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং দিয়ে চাইল্ড-ফ্রেন্ডলি পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রউফ ও আলেয়া আক্তার দম্পতি গ্রামের হাওরে একটি বাড়ি তৈরি করে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তাদের আশপাশে আর কোনো বাড়িঘর নেই। প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়িতে রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। আজ শুক্রবার সকালে তাদের দুই সন্তান রায়হান ও ফরহাদ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায়, ঘরের আড়ার সঙ্গে এক রশিতে তাদের মা-বাবার লাশ ঝুলছে। তাদের চিৎকারে দাদা-দাদি ও প্রতিবেশীরা সেখানে যান। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ও চুনারুঘাট সার্কেলের এএসপি মহসিন গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

মৃত দম্পতির পরিবারের সদস্যরা জানান, আব্দুর রউফ ছিলেন রিকশাচালক। তার স্ত্রী আলেয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরব ছিলেন। এক মাস আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে থাকত।

তবে তাদের দাবি, এটি হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ বলছে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক চম্পক দাম। তিনি আরও জানান, ওই শিশুরা বাড়িতেই দাদা-দাদির কাছে আছে।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102