রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
দোয়ারায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি নূরল আমীন এর ‘ভাটি বাঙলার উচ্ছ্বাস’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হবিগঞ্জে ১৩০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ৪৪ জন কমলগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান শুরু খালেদা জিয়ার সুস্থতায় ছাত্রদলের শিরণী বিতরণ ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করছে বাংলাদেশ’ বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষে আবৃত্তি উৎসবের লোগো উন্মোচন তাহিরপুর সীমান্তে গাঁজা-মদের চালানসহ আটক ৩ শাবিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম শুরু ব্যালন ডি’অর মেসির হাতেই? বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে ফ্লাইট চালু করবে ভারত ছাত্রদল নেতা সামসুদ্দোহার পিতার মৃত্যুতে সিলেট ছাত্রদলের শোক করোনার নতুন ধরন উদ্বেগের, নাম ‘ওমিক্রন’: ডব্লিউএইচও টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাই মাজার বস্তির পাঁচশর বেশি বসতঘর ১৩০০ বছর পুরনো মাটির মসজিদের সন্ধান ইরাকে

ডিজিটাল ডিভাইস তৈরিতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ

নতুন সিলেট ডেস্ক :
  • আপডেট : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১
ডিজিটাল ডিভাইস তৈরিতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ - Natun Sylhet

ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা ও বাস্তবায়নের এক যুগ পূর্তি হচ্ছে এ বছর। এই খাতে গত ১৩ বছরে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতীয় উন্নয়নে ডিজিটাল বাংলাদেশ মডেল সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমাদৃত এবং প্রশংসিত। সেই সুবাধে গত ১২ বছরে অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা এবং স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের চোখ এখন আরও সামনের দিকে। এজন্য ডিজিটাল ডিভাইস আমদানি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। খুব শিগগিরই ডিভাইস রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি।
দেশের উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল অগ্রগতি দেখাতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উদ্যোগে সাংবাদিকদের নিয়ে ডিজিটাল ট্যুরের আয়োজন করা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল প্রথমদিন বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি পরিদর্শন করানো হয়।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদেশ ডিজিটালের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে মোবাইল চার্জ দেয়ার জন্য কয়েক মাইল দূরে যেতে হতো। এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেখানে বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই সেখানেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি দেশের সব জায়গায় ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব আখতারুজ্জামান বলেন, আস্তে আস্তে আমাদের এই আইসিটি পার্ক অনেক উন্নত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের দৃশ্যপট অনেক বদলে যাবে। এদিকে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি কর্তৃপক্ষ জানান, সিটিতে এ পর্যন্ত মোট ৭০টি দেশি- বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ১২০ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ৪৬০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে বিনিয়োগের পরিমাণ ১২৬৪.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৪১২৬৯ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই সিটি ঘিরে। ৩৫৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত হাইটেক পার্ক। বর্তমানে এখানে ১টি প্রতিষ্ঠান ওয়াটার ট্যাংক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য আইওটি ডিভাইস তৈরি, ২টি প্রতিষ্ঠান অপটিক্যাল ফাইবার, ১টি প্রতিষ্ঠান কিওস্ক মেশিন এবং ১টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাসেম্বলিং শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পার্কটিতে ৪.২৫ লাখ বর্গফুট ফ্লোর স্পেস নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করেছে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক-এর পরিচালক অর্থ শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবেশবান্ধব এই হাইটেক পার্কে দেশে হাইটেক শিল্প তথা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থসামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দেশে হাইটেক শিল্পের বিকাশ, উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকার ‘বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০’ (আইন নং-৮)-এর দ্বারা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রাথমিকভাবে এ পার্কের জন্য ২৩২ একর জমি বরাদ্দ ছিল এবং পরবর্তীতে সরকার আরও ৯৭ একর জমি পার্কের জন্য বরাদ্দ করায় বর্তমানে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির মোট জমির পরিমাণ ৩৫৫ একর। ৩৫৫ একর জমিকে ৫টি ব্লকে ভাগ করা হয় যা: রেসিডেন্সিয়াল, হোটেল, এডমিনিস্ট্রেশন এবং সোশ্যাল এমিনিটিস-এর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকারি অর্থায়নে সহায়ক অবকাঠামোসমূহ নির্মিত হয়েছে। প্রধান সহায়ক অবকাঠামোসমূহের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ মূল রাস্তা, অভ্যন্তরীণ (শাখা সড়ক) নির্মাণ, ব্রিজ ও ৬টি কালভার্ট নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, পানি সরবরাহ লাইন ও রিজার্ভার নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, কাস্টমস হাউজ/সেবা ভবন নির্মাণ, ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বৈদ্যুতিক সাব- স্টেশন, স্যুয়ারেজ লাইন ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, ৪৮ কোরের অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ গ্যাস দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ পিপিপি মডেলে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ব্লক নং ২ ও ৫-এর জন্য সামিট টেকনোপলিশ-এর জন্য বাংলাদেশ টেকনোসিটি লি.-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি ব্লক নং ২৩৫-এর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সামিট টেকনোপলিশ লি. ব্লক নং ২-এ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১.৬৫ লাখ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি ৩ তলা সিগনেচার বিল্ডিং নির্মাণ করছে এবং ব্লক নং ৫-এ প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ হাজার বর্গফুটবিশিষ্ট একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিল্ডিং নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। সামিট টেকনোপলিশ লি. তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ব্লকে ১১টি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২,৭৪,১৮১৪ বর্গফুট স্পেস এবং ৩১ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে। এর মধ্যে ওরি বায়োটেক লিমিটেড নামের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৫ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে এবং ব্লক নং ৪-এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভবনে ৩টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্পেস বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। অপর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেকনোসিটি লি. ব্লক নং ৩-এ ২.১০ লক্ষ বর্গফুটবিশিষ্ট ৮ তলা এমটিবি, ৩,০০০ বর্গফুটবিশিষ্ট ভরমিটরি ভবন, ৮,০০০ বর্গফুটবিশিষ্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভবন, ২০,০০০ বর্গফুটবিশিষ্ট ডাটা সেন্টার পাওয়ার হাউজ বিল্ডিং এবং ২,০০০ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি ১২ প্রতিষ্ঠানকে জমি/স্পেস বরাদ্দ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিঃ কর্তৃক তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ব্লকে ১৪টি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ৬১,০০০ বর্গফুট রেডি স্পেস এবং ৩.৬০ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ব্লক নং ৬,৪,৪এ-এ দেশি-বিদেশি ৪০টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্রুতই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সেবা ভবনের ৮ম তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এসব ভবনে দুটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০,৩১৮ বর্গফুট স্পেস বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ডাটা সফট সিস্টেম লিমিটেডকে ১৫,৭১৯ বর্গফুট এবং বিজনেস অটোমেশন নামীয় প্রতিষ্ঠানকে ৪৬০০ বর্গফুট স্পেস বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ডাটা সফট ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে পণ্য উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। অপর প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশন উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করেছে। এডমিন ভবনে ৫টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের রেডি স্পেস বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ডেল্টা ইনস্টিটিউট, রেডডট লি., এসপ্যায়ারটেক লি. অন্যতম।
তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ঘোষণা ছিল। ২০০৮ সালের ১২ই ডিসেম্বর ঘোষিত সে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্ষমতায় এসে সরকার দেশের বিভিন্ন হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ ছাড়া কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা শুরু করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিল্প হিসেবে প্রযুক্তিকে কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তারও একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয় সরকার।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102