বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
খালেদার অসুস্থতাকে পুঁজি করে বিএনপি আন্দোলন করছে-প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথে পুকুরে ডুবে প্রতিবন্ধী যুবতীর মৃত্যু মৌলভীবাজারে ইটভাটা শ্রমিককে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা `কর্মগুনে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছেন অ্যাডভোকেট জালাল’ কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশ-বসনিয়া সমঝোতা আলোচনায় সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ঝুমন দাশের জামিন বহাল ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: প্রতিরক্ষা প্রধানসহ নিহত ১৩ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় রুপিসহ যুবক আটক জাতির পিতার আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে যুবলীগকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৫৭ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন : ডব্লিউএইচও বিয়ের মঞ্চে কনের সিঁথিতে প্রেমিকের সিঁদুর! সিলেটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ভারতে প্রতিরক্ষা প্রধানবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪ তাহিরপুরে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা আ. লীগ জনগণের দল, শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

নৌকা ডোবাতে বেসামাল বিদ্রোহীরা

বিশেষ প্রতিবেদন:
  • আপডেট : বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
নৌকা ডোবাতে বেসামাল বিদ্রোহীরা - Natun Sylhet

সিলেট বিভাগের ৫৩ টিতে আ’লীগের ৮৫ বিদ্রোহী, মাত্র ২৪টিতে একক প্রার্থী

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহীদের ঠেকাতে পারছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংগঠনের কঠোর হুশিয়ারি, এমনকি বহিস্কার হলেও ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। বরং দল মনোনীত প্রার্থী  ও প্রতীক নৌকা ডোবাতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে স্বতন্ত্র হয়ে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

দ্বিতীয় দফায় ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহীদের কারণেই নৌকার ভরাডুবি হয় সিলেট বিভাগে। ওই নির্বাচনে বিভাগের ৪৩টি ইউনিয়ন পরিষদের ২৩টি হাত ছাড়া হয় আওয়ামী লীগের। আসন্ন তৃতীয় দফার নির্বাচনে বিদ্রোহীর সংখ্যা বেড়েছে।

এ ধাপের ৭৭টি ইউপির এক তৃতীয়াংশতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিদ্রোহীরা। এদের মধ্যে নারী এবং প্রবাসী নেতারাও প্রার্থী হয়েছেন। বিভাগের উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী নবীগঞ্জে ১৭ জন। এরপর সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ১৬ জন ও মৌলভীবাজরের বড়লেখায় ১৫ জন। সবচেয়ে কম সংখ্যক তিনজন করে বিদ্রোহী রয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও সিলেটের জৈন্তাপুরে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পাঁচটি ইউপির সবক’টিতে একজন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে সিলাম ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত শাহ ওলিদুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ করে ঘোড়া মার্কায় চড়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন বিদ্রোহী মো. মুজিবুর রহমান। জালালপুরে নেকৈার প্রার্থী ওয়েস আহমদের সঙ্গে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন মোহাম্মদ নেছারুল হক (ঘোড়া)। লালাবাজারে নৌকা প্রতীকের তোয়াজিদুল ইসলামের বিদ্রোহী হয়েছে আব্দুল মুহিত (আনারস)। মোগলাবাজার ইউপিতে নৌকায় সদরুল ইসলামের প্রতিপক্ষ হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো.ফখরুল ইসলাম শায়েস্তা (ঘোড়া)। দাউদপুরে নৌকার আতিকুল হককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন মো. নুরুল ইসলাম (আনারস)।

বিভাগের মধ্যে সব চেয়ে কম বিদ্রোহী প্রার্থী জৈন্তাপুরে। এ উপজেলার পাঁচটি ইউপির তিনটিতেই একক প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে, দু’টিতে নির্বাচন করছেন দলের তিন বিদ্রোহী। এরমধ্যে জৈন্তাপুর সদর ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক রাজার (নৌকা), তার বিদ্রোহী আব্দুল কাইয়ূম (টেলিফোন) ও চিকনাগুলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে ভোটে লড়ছেন দলের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আমিনুর রশীদ (দু’টিপাতা), ফয়জুল হাসান (ঘোড়া)।

গোয়াইনঘাটের ছয়টির সব কটিতেই ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন একজন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এরমধ্যে রুস্তুমপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুক আহমদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দলের বিদ্রোহী আব্দুল মতিন। ফতেহপুরে দলীয় প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন বিদ্রোহী আমিনুর রহমান চৌধুরী। লেঙ্গুরা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া রাসেল। নন্দিরগাঁওয়ে দলীয় প্রার্থী কামরুল হাসান আমিরলের সঙ্গে বিদ্রোহী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও হীরক দে। ডৌবাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুভাস দাশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এম নিজাম উদ্দিন। তোয়াকুলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লোকমান আহমদের বিদ্রোহী হয়েছেন শামসুদ্দিন আহমদ।

এছাড়া বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জের সাত ইউনিয়নে নারীসহ ১১ বিদ্রোহী রয়েছেন। জেলার সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে রঙ্গারচর ও লক্ষণশ্রী ছাড়া অন্য সাতটি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১১জন।

তাদের সঙ্গেই নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে হচ্ছে দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। এরমধ্যে মোল্লাপাড়া ইউপিতে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মনির উদ্দিন। তাকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বিদ্রোহী আব্দুছ সালাম (ঘোড়া)। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকছুদ আলীর (নৌকা) বিরুদ্ধে ভোটে লড়ছেন বিদ্রোহী আব্দুল কাদির (আনারস)। কোরবাননগর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আওয়ামী লীগের শামস উদ্দিন। তাকে লড়তে হচ্ছে বিদ্রোহী আফজাল নূর (আনারস) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী কোহিনূর আলমের (টেবিল ফ্যান) সঙ্গে। মোহনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত সীতেশ রঞ্জন দাস তালুকদারের (নৌকা) সঙ্গে মাঠে আছেন বিদ্রোহী মঈন উল হক (মোটরসাইকেল)। কাঠইর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বুরহান উদ্দিন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আজিজুর রহমান তালুকদার (মোটরসাইকেল) ও আব্দুল মতিন (ঘোড়া)। সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আব্দুস ছাত্তারকে (নৌকা), টক্কর দিয়ে মাঠে নেমেছেন দলের দুই বিদ্রোহী আমির হোসেন রেজা (চশমা) ও তাজুল ইসলাম (আনারস)। গৌরারং ইউনিয়নে জেলায় আওয়ামী লীগের একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ছালমা আক্তার চৌধুরী। তাকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বিদ্রোহী চম্পা বেগম (চশমা) ও সারুয়ার আহমেদ (মোটরসাইকেল)।

বিদ্রোহমুক্ত একটি ইউনিয়নও নেই শান্তিগঞ্জে: ৮ ইউনিয়নের সবক’টিতেই লড়ছেন ১৬ বিদ্রোহী। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কোনোটিতেই একক প্রার্থী দিতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই আটটি ইউপিতে দলীয় প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে ভোটে আছেন আওয়ামী লীগের ১৬ জন বিদ্রোহী।

এর মধ্যে শিমুলবাক ইউনিয়নে দলের প্রার্থী মিজানুর রহমান জিতুর বিরুদ্ধে ভোটে লড়ছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল্লাহ মিয়া (চশমা) ও শাহীনুর রহমান (আনারস)। জয়কলস ইউনিয়নে দলের মনোনীত মাসুদ মিয়ার সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন দলীয় নেতা আব্দুল বাছিত সুজন (ঘোড়া), হাছান মামুদ তারেক (মোটরসাইকেল), রাজা মিয়া (টেবিল ফ্যান) ও আব্দুল লতিফ কালা শাহ (অটোরিকশা)। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দারের সঙ্গে বিদোহী প্রার্থী হয়েছেন দলীয় নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক (আনারস)। পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী রাশিকুল ইসলামের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বিদ্রোহী কামাল হোসেন(মোটরসাইকেল) ও জয়নাল আবেদীন (টেবিল ফ্যান)। দরগাপাশা ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী মনির উদ্দিনের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন দলীয় নেতা মাছুদুল হাসান (আনারস)। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে ভোটে লড়ছেন মসফিকুর রহমান (ঘোড়া) ও রুবেল মিয়া (আনারস)। পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী দেবাংশু শেখর দাশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিদ্রোহী সফিকুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) ও শামছুল আলম ভূঁইয়া (আনারস)। পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামছুল ইসলাম রাজাকে লড়তে হচ্ছে দলের বিদ্রোহী শহীদুল ইসলাম (ঘোড়া) ও হারুনুর রশীদ তালুকদারের (অটোরিকশা) সঙ্গে।

বড়লেখায় ৯ ইউনিয়নে ১৫ বিদ্রোহী: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে সুজানগর ছাড়া অন্য ৯টিতে বিদ্রোহী রয়েছেন ১৫ জন।এর মধ্যে বর্ণি ইউনিয়নে দল মনোনীত জোবায়ের হোসেনের  নৌকা) বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম আহমদ (ঘোড়া), ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং তাঁতী লীগ নেতা আব্দুল মুহিত (মোটরসাইকেল)। দাসেরবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগপ্রার্থী জিয়াউর রহমানের (নৌকা) বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন (ঘোড়া),  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার চক্রবর্তী (আনারস) ও কয়েছ আহমদ (অটোরিকশা)। নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ময়নুল হকের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবু সাহেদ (ঘোড়া)। উত্তর শাহবাজপুরে আওয়ামী লীগের মনোনীত রফিক উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আতাউর রহমান (আনারস) ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মুমিনুর রহমান টনি (ঘোড়া)। দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নাহিদ আহমদ বাবলুর (নৌকা) বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন (ঘোড়া। বড়লেখা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত সালেহ আহমদ জুয়েলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন (ঘোড়া)। তালিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত বিদুৎ কান্তি দাসের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা এখলাছুর রহমান (আনারস)। দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী এনাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. নজরুল ইসলাম  (ঢোল), উপজেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল জলিল ফুলু (ঘোড়া), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ (টেলিফোন) ও ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন (মোটরসাইকেল)। এরমধ্যে ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন গত কয়েক বছর আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান।  দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সুলতানা কোহিনুর সারোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজির উদ্দিন (ঘোড়া)।

কুলাউড়ার ১১টিতে একক, দু’টিতে বিদ্রোহ: কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে এগারটিতেই এককপ্রার্থী দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। আর একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দু’টি ইউনিয়নে। এরমধ্যে ‌‌কর্মধা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ রহমান আতিক। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক মুহিবুল ইসলাম আজাদ (চশমা)।ভাটেরা ইউনিয়নে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম (আনারস)। এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা জুবায়ের আহমদ সেলিম। এছাড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ভাটেরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল ইবনে শহীদ চৌধুরীও (চশমা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হবিগঞ্জ সদরে পাঁচ ইউপিতে সাত বিদ্রোহী: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের সাত বিদ্রোহী। এদের মধ্যে লোকড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহাম্মদ আলীকে (নৌকা), টক্কর দিয়ে ভোটে লড়ছেন দলের বিদ্রোহী কায়সার রহমান (চশমা), কয়ছর আহমেদ (টেলিফোন) ও মীর জালাল (টেবিল ফ্যান)।  তেঘরিয়া ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী এমএ মোতালিব (নৌকা)।এখানে (মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. সেবলু মিয়া)।  গোপায়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান চৌধুর কে (নৌকা) চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন (আনারস)  প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। রাজিউড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. বদরুল করিম দুলাল (নৌকা)।এখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আবুল কালাম বাবুল (ঘোড়া)। নিজামপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো আব্দুল আউয়াল। তার বিরুদ্ধে লড়ছেন দলের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিন (আনারস)।

নবীগঞ্জে ৯টি ইউনিয়নে ১৭ বিদ্রোহী: উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে দীঘলবাক ছাড়া অন্য ১২টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দলের ১৭ বিদ্রোহী। এরমধ্যে কুর্শি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী আলী আহমদ মুসার বিরুদ্ধে লড়ছেন লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগের দুই নেতা আব্দুল মুকিত (চশমা) ও আবু তালিম (মোটর সাইকেল)। ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত লন্ডন প্রবাসী যুবলীগ নেতা আছাবুর রহমানের বিরুদ্ধে লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মো. ছায়েদ উদ্দিন (মোটর সাইকেল) ও যুবলীগ নেতা নোমান আহমদ (ঘোড়া)। বাউসায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দীকের বিরুদ্ধে লড়ছেন লন্ডন প্রবাসী যুবলীগ নেতা জুনেদ হোসেন চৌধুরী (ঘোড়া)। বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান সমর চন্দ্র দাশের (নৌকা) বিরুদ্ধে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সত্যজিৎ দাশ (চশমা)। বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আক্তার মিয়া ছুবা (নৌকা)। তার বিরুদ্ধে সাবেক চেয়ারম্যান মেহের আলী মহালদার (আনারস) ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান-১ খালেদ মোশারফ (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আউশকান্দি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি দিলাওর হোসেনের (নৌকা) বিরুদ্ধে লড়ছেন যুবলীগ নেতা আব্দুল হামিদ নিক্সন (ঘোড়া)। করগাঁও ইউপিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বজলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানা (ঘোড়া) ও প্রাক্তন মেম্বার শেখ মো. ইছাক মিয়া (মোটর সাইকেল)। নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজু আহমদ চৌধুরী (আনারস)। দেবপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মুহিত চৌধুরীর (নৌকা), বিরুদ্ধে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ। গজনাইপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবের আহমদ চৌধুরী (নৌকা)। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীপ্রার্থী হয়েছেন দলটির উপজেলা সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল (আনারস) ও হাফেজ আইয়ুব আলী (সিএনজি অটোরিকশা)। কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত ফরহাদ আহমদের (নৌকা) বিরুদ্ধে আনারস  প্রতীক নিয়ে লড়ছেন এমদাদুল হক চৌধুরী। পানিউন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীই আওয়ামী লীগের। এদের একজন ৫ বারের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান (নৌকা), অপরজন দলের বিদ্রোহী মহিবুর রহমান মামুন (আনারস) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আমরা কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্রের নির্দেশ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের সম্পর্কে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, দলে থেকে দলের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে যারা ভোটে লড়ছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, অনেক ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর নামের তালিকা পাঠাতে বা সুপারিশ করতে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। এ কারণে কোনো কোনো স্থানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা-উপজেলা থেকে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। দলের বিদ্রোহীরা বিজয়ী হলেও তাদের ফেরার সুযোগ নেই। তাদের স্থায়ীভাবে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেবে।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102