শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
সিলেটে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা সেই নারী পুলিশ ক্লোজড পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিল নেটফ্লিক্স পাবজি খেলতে না পেরে কিশোরের আত্মহত্যা প্রভাবশালী ২৫ নারীর তালিকায় আফগান কিশোরী সিলেটে আ.লীগের বিদ্রোহী আরও ৫ নেতা বহিষ্কার খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবিতে ছাত্রদলের কাফনের কাপড় পড়ে মিছিল কোন মুসলমান ইসলাম ছাড়া কারও মত গ্রহণ করতে পারে না : পীর সাহেব চরমোনাই লাল কার্ড হাতে নিয়ে রামপুরা রাস্তায় শিক্ষার্থীরা টাঙ্গাইলে বাস-কাভার্ডভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত পূজা-অন্তুর সংসারে বিচ্ছেদের সুর নীলফামারীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িতে অভিযান: আটক ৫ নতুন রেকর্ডে চোখ রোনালদোর মালিতে বাসে জঙ্গি হামলা, নিহত ৩১ শাবিতে স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির খেসারত দিচ্ছেন ১৪৮ শিক্ষার্থী

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির খেসারত দিচ্ছেন ১৪৮ শিক্ষার্থী - Natun Sylhet

নানা কারণে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির। এবার নতুন করে সামনে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) আইন লঙ্ঘন করে ছাত্র ভর্তির বিষয়টি। প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের ফাঁদে আটকা পড়ে শিক্ষার্থীদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে ১৪৮ শিক্ষার্থীকে।

ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ২ বছর আগে পাঠ চুকিয়ে বেরোলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনিয়মের জরিমানা পরিশোধ না করায় ২১.২২.২৩.২৪ ব্যাচের ১৪৮ শিক্ষার্থী বার কাউন্সিলের পরিক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন আইন অনুষদ থেকে পাস করে বেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। সমস্যা সমাধানে শিক্ষকরা এগিয়ে না আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি ও আইন বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করান। এজন্য বার কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের ইন্টিমেশন জমা নিচ্ছে না। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রায় ৮ মাস আগে এই ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে হাইকোর্টে ২টি রিট (৫০৯১ ও ৫৩৭০) দাখিল করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আপতার মিয়া ও ২২তম ব্যাচের ছাত্র শফিকুল ইসলাম শফির এই রিট দুটোর উপর ভিত্তি করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আপতার মিয়া ও ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা শফিকুল ইসলাম শফির রিটের পক্ষে হয়। হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহ সময় দেন এই টাকা পরিশোধে। মোট ৬টি কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জরিমানার টাকা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। ২২ নভেম্বরের মধ্যে যদি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারেন। তাঁদের দক্ষতা দিয়ে যদি সমাধান করেন। তবে শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে না এসে বাসায় থাকবেন। ক্যাম্পাস অবরূদ্ধ করে আমরা তালা লাগিয়ে দেবো।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন অনুষদের ২৩তম ব্যাচের ছাত্র তারেক আহম্মেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে প্রতিটি ব্যাচে ৫০ জনের অধিক ভর্তি নেওয়ায় আমাদের নিবন্ধন নিচ্ছে না বার কাউন্সিল। সমস্যার সমাধানে আমরা আাগামি রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছি। সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে যাবো। এতে প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনে সামিল করবেন তারা।

তিনি বলেন, ভোক্তাভোগী শিক্ষার্থী জুবায়ের, নুরুল আমিনসহ আমরা ভিসির সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে জরিমানার টাকা ছাত্ররা দিক। বার কাউন্সিলের পরিক্ষা না দিতে পারার বিষয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং অধিকার আদায়ে গিয়ে আমরা হেনস্তার শিকার হচ্ছি। ২ বছর আগে পাস করে বেরোনো শিক্ষার্থীরা এখন মানসিক অশান্তির মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষকরা শান্তনা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো মামলার ও রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে সহপাঠিদের কারো কোনো সমস্যা হলে দায়ভার ভার্সিটি কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

২৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিলুফা আক্তার বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই একটি স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয় এবং বড় মোটা অংকের টাকা লাগে। আমরা স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হলেও, এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন ছিল আইনজীবী হওয়া। এই স্বপ্নের সঙ্গে স্যাররাও জড়িত। কিন্তু তারা কোনো ভাবেই আমাদের সহযোগীতা করছেন না। ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্পূর্ণ অন্যায়। ইউজিসির রুল না মানায় সমস্যা হয়েছে, সেটার দায়ভার স্যারদের। একারণে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে কেনো? এটা মেইনটেন করতে গিয়ে আমাদের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দিয়েছি, রীটও করেছি। আদালতের পক্ষ থেকে ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়েছে এই টাকাও কি আমরা দেবো? ভিসি ও বিভাগীয় প্রধান বলবেন, টাকা দিতে পারবেন না। এরকম বিভাগীয় থাকলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের অনেকে বলেন, ২০১৫ সালে অনার্সে ভর্তি হয়ে ২০১৯-২০ সালে গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করেছি। আমরা বিভিন্ন কর্মস্থলে চাকুরীর প্রস্তুতি নিচ্ছি। গ্রেজুয়েশন শেষ করে কারো এই ইচ্ছাটুকু নেই যে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করবো। এ সব কিছুর মূলে আইন অনুষদের প্রধান হুমায়ন কবীর। তার নেতৃত্বে এসব কিছু হচ্ছে।আজো বিভাগীয় প্রধান অনুপস্থিত, যাতে কৈফিয়ত না দিতে হয়। তাই তিনি পালিয়ে ঢাকা চলে গেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব সময় তিনি কোন্দল সৃষ্টি করে চলেছেন। স্টুডেন্ট পলিটিক্স বা ছাত্ররাজনীতি লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপে রাখেন। তিনি ইউজিসির নীতি পরিপন্থি কাজ করে চলেছেন। আমাদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকার কথা। সেখানে বিরোধ তৈরী করেছেন। যৌক্তিক কথা বলার কারণে হুমকি দিচ্ছেন। এখন দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেছে, তাই বলতে হচ্ছে- শিক্ষকরা নিয়োগের মধ্যে নিজস্ব চিন্তা ভাবনা জাহির করে নিজের লোক বসিয়েছেন। তাই ভাল ফলাফলকারীরা এখানে শিক্ষক হতে পারে না। অন্য ভার্সিটি থেকে এনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ তালুকদার বলেন, আপানারা সবই জানেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াতে ১৩ মাস ধরে বেতন পাই না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের বিভাগীয় প্রধান হুমায়ন কবীর বলেন, ২০১৪ সালে প্রতি বেসকারি ভার্সিটিতে চিঠি আসে। প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো ৫০ জনের অধিক ভর্তি করে। আমরাও ভর্তি করেছি। অধিক ছাত্র ভর্তির বিষয়টি ইউজিসিকে জানিয়েছি। বার কাউন্সিল ইউজিসি থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ফলে তারা এই ৪ ব্যাচের পরিক্ষা দিতে দেবে না।

ছাত্রদের দিয়ে তিনি রীট করিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, রীটের বিপক্ষে হাইকোর্টের রায়ে আইনগত ত্রুটি রয়েছে। আমরা সেটি তুলে ধরেছি। এ্কই ভুলের জন্য আবার বার কাউন্সিল ব্যাখ্যা চায়। কিন্তু ব্যাখ্যা দিলেও গৃহিত হয়েছে কিনা জানিনা। আমরাই শিক্ষকদের মাধ্যমে রীট করি।ওই রীটের আপীল করি। আগামি ১২ তারিখ আপীলের শোনানী হবে।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102