রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
সিলেটে ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবিতে জেলা বিএনপির লিফলেট বিতরণ সিলেটের ৭৭ ইউনিয়নে চলছে ভোটগ্রহণ পঞ্চম ধাপে সিলেটের আরও ৭৫ ইউপিতে ভোট ৫ জানুয়ারি  রাত পোহালে ৭৭ ইউপিতে ভোট: ঝুঁকিপূর্ণ সিলেটের ১৩৮ কেন্দ্র দোয়ারায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি নূরল আমীন এর ‘ভাটি বাঙলার উচ্ছ্বাস’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হবিগঞ্জে ১৩০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ৪৪ জন কমলগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান শুরু খালেদা জিয়ার সুস্থতায় ছাত্রদলের শিরণী বিতরণ ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করছে বাংলাদেশ’ বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষে আবৃত্তি উৎসবের লোগো উন্মোচন তাহিরপুর সীমান্তে গাঁজা-মদের চালানসহ আটক ৩ শাবিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম শুরু

বিচারিক ক্ষমতা হারালেন বিচারপতি কামরুন্নাহার

নতুন সিলেট ডেস্ক:
  • আপডেট : সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
বিচারিক ক্ষমতা হারালেন বিচারপতি কামরুন্নাহার - Natun Sylhet

ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকার পরও এক আসামিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকা এবং ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সিজ (seize) করেছেন আপিল বিভাগ।

ওই বিচারক সুপ্রিম কোর্টে হাজিরের পর সোমবার (২২ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানায়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে বর্তমানে সংযুক্ত এবং ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার আজ সকাল সাড়ে ৯টায় সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগে সশরীরে উপস্থিত হন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অদ্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১ নম্বর ক্রমিকের মামলায় শুনানি শেষে তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সিজ (seize) করা হয়েছে- মর্মে আদেশ দেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পরবর্তীতে প্রকাশ হবে।

আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে ছিল রাষ্ট্র বনাম আসলাম সিকদারের মামলা। ওই ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকার পরও এক আসামিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় এ বিচারককে গত বছরের ১২ মার্চ তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ। পরে তাকে ২ এপ্রিল হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

কিন্তু করোনার পরে এ মামলাটি আর কার্যতালিকায় আসেনি। পরে মামলাটি ১৫ নভেম্বর কার্যতালিকায় উঠে। ওইদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছেন। তবে কী আদেশ দিয়েছেন, তা জানা যায়নি। এরপর মামলটি ফের সোমবার (২২ নভেম্বর) কার্যতালিকায় ওঠে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারক কামরুন্নাহার আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচারকক্ষে হাজির হন। পরে ওই বিচারকক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন অফিসার, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এরপর ভার্চ্যুয়ালি শুনানি শুরু হয় বলে জানা গেছে।

প্রায় পৌনে ১১টা পর্যন্ত আর কেউই ওই কক্ষে ঢুকতে পারেননি। পরে বেঞ্চ অফিসারদের কক্ষে প্রবেশ করানো হয় এবং ২ নম্বর আইটেমের আইনজীবীদের ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় ওই কক্ষে প্রবেশ করে বিচারক কামরুন্নাহারকে দেখা যায়নি। এর মধ্যে কোনো এক সময়ে তিনি অন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান।

বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭- এর বিচারক ছিলেন। তিনি রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দেওয়া হয়। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রায় ঘোষণার সময় তিনি একটি পর্যবেক্ষণ দেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়। এমন পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা।

এরপর ১৩ নভেম্বর (শনিবার) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে জন্য একটা চিঠি লিখবেন।

পরদিন রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ওই বিচারককে আদালতে না বসতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পরে ওইদিন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭- এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোছা. কামরুন্নাহারকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু বিস্তারিত রায়ে সেই পর্যবেক্ষণটি ছিল না।

ধর্ষণের ওই মামলায় ২০১৯ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সাবেক অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক আসলাম সিকদার। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত ওই বছরের ২৫ জুন জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত বছরের ২ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ ওই আসামিকে জামিন দেন। সর্বোচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের পরও আসামিকে জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিচারককে ব্যাখ্যা জানাতে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে আসলাম সিকদারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন।

এদিকে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় ওই মামলা করা হয়। মামলায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫– এর বিচারক রায়ে আসলাম সিকদারকে খালাস দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ খালাসের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102