রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
পঞ্চম ধাপে সিলেটের আরও ৭৫ ইউপিতে ভোট ৫ জানুয়ারি  রাত পোহালে ৭৭ ইউপিতে ভোট: ঝুঁকিপূর্ণ সিলেটের ১৩৮ কেন্দ্র দোয়ারায় বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি নূরল আমীন এর ‘ভাটি বাঙলার উচ্ছ্বাস’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হবিগঞ্জে ১৩০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ৪৪ জন কমলগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান শুরু খালেদা জিয়ার সুস্থতায় ছাত্রদলের শিরণী বিতরণ ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করছে বাংলাদেশ’ বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষে আবৃত্তি উৎসবের লোগো উন্মোচন তাহিরপুর সীমান্তে গাঁজা-মদের চালানসহ আটক ৩ শাবিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম শুরু ব্যালন ডি’অর মেসির হাতেই? বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে ফ্লাইট চালু করবে ভারত ছাত্রদল নেতা সামসুদ্দোহার পিতার মৃত্যুতে সিলেট ছাত্রদলের শোক করোনার নতুন ধরন উদ্বেগের, নাম ‘ওমিক্রন’: ডব্লিউএইচও

পরকীয়া প্রেমিক হত্যা, সিলেটে নারীসহ দু’জনের মৃত্যুদণ্ড

নতুন সিলেট প্রতিবেদক :
  • আপডেট : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
পরকীয়া প্রেমিক হত্যা, সিলেটে নারীসহ দু’জনের মৃত্যুদণ্ড - Natun Sylhet

বিয়ের পর পরকীয়ার প্রমাণ না রাখতে প্রেমিক ইমরান আহমদকে অপহরণ করে হত্যা করে মরদেহ শ্বশুড়বাড়ির পুকুরে গুম করেছিলেন গৃহবধূ সুহাদা বেগম।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় সুহাদা বেগম (২১) ও ভাড়াটে খুনি জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রায় ঘোষণাকালে পলাতক থাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদ্বদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ম আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় দেন।

অত্র আদালতের বেঞ্চ সহকারি সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আহমদ (২৩) ও দুর্গাপুর দক্ষিণ নয়া গ্রামের বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগম (২১)।

আর হত্যা সম্পৃক্ততার অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস প্রাপ্তরা হলেন, দুর্গাপুরের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে মাছুম আহমদ (৩০) ও মুলাগুল নয়াখেল গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন (২৪)।

মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, কানাইঘাটের সোনাপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে ইমরান হোসেন স্থানীয় রমিজা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে টেইলার্সের ব্যবসা ছিল। তার দোকানের পাশে সুহাদা বেগম মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নব বিবাহিত সুহাদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় ইমরানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন সুহাদা। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সুহাদা ইমরানকে খবর দিয়ে নেয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল ইমরান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবু বকর প্রথমে থানায় জিডি ও পরে অপহরণ মামলা করেন।

রায় ঘোষণার পর মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার সাবেক উপ পরিদর্শক (এসআই) জুনেদ আহমদ বলেন, নিহতের বাবা সুহাদাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭৮ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়েরের কয়েকদিন পরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে জবানবন্দি মোতাবেক সুহাদার দেখানো মতে, তার শ্বশুড় বাড়ির পুকুরের তলদেশে গাছের সঙ্গে বস্তায় ভরে ইট দিয়ে বেধে রাখা অবস্থায় ইমরানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যার বর্ণনা দিয়ে গিয়ে সুহাদা জানিয়েছিল, ইমরানকে পানির সঙ্গে নেশা ও ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর সে অন্য কক্ষে গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বসে আর ভাড়াটে ৪ খুনিরা ঘরে ঢোকে অচেতন ইমরানকে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ির পুকুরে মরদেহ গুম করে রেখেছিল।

এই ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলা তদন্তক্রমে ৪ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি আদালতে দায়রা ২২৬২০১৮ মূলে বিচারকার্যের জন্য রেকর্ডভুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিচারকার্য শুরু হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুহাদা বেগম ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট অনির্বাণ দাস।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© নতুন সিলেট মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102